অনন্তধ্বনি প্যারিস এবং আমার দাদা কিরণ্ময় মন্ডল/ রুহুল ইসলাম টিপু

কিরণ্ময় মন্ডল

অনন্তধ্বনি প্যারিস এবং আমার দাদা কিরণ্ময় মন্ডল

রুহুল ইসলাম টিপু

কিরণ্ময় মন্ডল। আমার দাদা। বন্ধু সুব্রত জীবনময় এর বড় ভাই। সুব্রত মন্ডল চিকিৎসক। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র। এখন কর্মরত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। স্কুলে দাদা কিরণ্ময় ছিলেন উপরের ক্লাসে। জীবনময় আর আমি একক্লাস নিচে। দাদার আরেক ভাই স্বপন মন্ডল ছিল আরও এক ক্লাস নিচে। স্বপন ও আমার ছোট ভাই একই ক্লাসের ছাত্র। তাই পারিবারিকভাবে আমরা ছিলাম নিবিড় এবং একে অপরের ঘনিষ্টজন। কিরণ্ময় দাদা, সুব্রত এবং স্বপন সকলেই ছাত্র হিসেবে ছিলেন অসাধারণ। স্কুল মানিকগঞ্জ সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়। ডা: সুব্রত মন্ডল এর সাথে করোনা কালে বন্ধু একাদশের অন লাইন আড্ডায় কথা হয়। অনন্তধ্বনি প্যারিস এর সাথে আমার যোগসূত্র শহরের আরেক বন্ধু শুক্লা সিকদারের মাধ্যমে। ০৮ মে ২০২১ ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬০ তম জন্ম বার্ষিকী’র অনন্তধ্বনি প্যারিস এর আয়োজন। হে নূতন দেখা দিক আরবার—–বৃত্ত ভাঙ্গা রবীন্দ্রনাথ শিরোনামে। কলকাতার সঙ্গীত শিল্পী শুভ প্রসাদ নন্দী, আটালান্টার আবৃত্তি শিল্পী স্বপন কুমার মন্ডল এবং সঙ্গীত অনুরাগী কিরণ্ময় মন্ডল প্যারিস থেকে যুক্ত। প্রায় চল্লিশ বছর পুনরায় কিরণ্ময় মন্ডল এবং স্বপন মন্ডল’কে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ি। স্বপন মন্ডল এর আবৃত্তি শুনছি। আর স্মৃতিতে চলে যাই স্কুল করিডোরে। ৭০ দশকের শেষে বা ৮০ এর দশকের শুরুর দিকে স্বপন স্কুলের সেরা ছাত্র। একই সাথে স্কুলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শীর্ষমণিও। স্বপন কবিতা-আবৃত্তি ও সংবাদ-পাঠ এর অনবদ্য এক প্রতিভার স্বাক্ষর। আমি অভিভূত স্বপন আমেরিকায় বাস করেও বাংলা কবিতা এবং রবীন্দ্র চর্চা অব্যাহত রেখেছে। বন্ধু জীবনময়দের ঔষধের দোকান শান্তি ফার্মেসি। এখনো শহরের মধ্যে অবস্থিত। বড় দাদা দোকান এবং ভাইদের অভিভাবক হিসেবে সকল কিছু সামলাতেন। এরকম ত্যাগী দাদা পৃথিবীতে বিরল।

অনন্তধ্বনি প্যারিস এর যাত্রা ২০২০ এর সেপ্টেম্বর হতে। সংগঠনের বয়স এক বছর। প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম কিরণ্ময় মন্ডল এবং দাদার স্ত্রী আমাদের বৌদি সঙ্গীত শিল্পী রোজী মজুমদার। দাদা কিরণ্ময় মন্ডল উদীচী ফ্রান্স সংসদের সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। জীবনব্যাপী কিরণ্ময় দাদা করে যাচ্ছেন সঙ্গীত আয়োজন এবং সংস্কৃতি চর্চা। অনন্তধ্বনি প্যারিস এর ১ম বর্ষপূর্তি উদযাপন হচ্ছে ০২ অক্টোবর হতে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত। ৭ পর্ব দিবসের আয়োজন। বর্ষপূর্তিতে অনন্তধ্বনি’র শ্লোগান হচ্ছে ভিন্নতর সক্ষমতার শিশু কিশোরদের কল্যাণে সকল উচ্চারণ ধ্বনিত হোক অনন্তকাল। আমি বিশেষ সন্তানের বাবা হিসেবে এ উচ্চারণের মর্ম বুঝতে এবং শিখতে চেষ্টা করি। কিরণ্ময় দাদা আমার বিশেষ সন্তানের খোঁজ খবর রাখেন। তিনি বাংলাদেশে অটিজমে আক্রান্ত মানুষের উন্নয়নের একজন অংশী। সঙ্গীত-থেরাপি মানসিক উৎকর্ষতার পদ্ধতি। সঙ্গীত ও সুরের মাধ্যমে অটিস্টিক ব্যক্তির কল্যাণ ও বিকাশ সম্ভব। এক্ষেত্রে কিরণ্ময় দাদা’র সুদূরপ্রসারী বিস্তর চিন্তা ভাবনা রয়েছে। তিনি অনন্তধ্বনি প্যারিস এর প্লাটফর্মেই আগামীতে ভিন্নতর সক্ষমতার মানব কল্যাণে অনলাইন আয়োজনে সকলকে সমৃদ্ধ করবেন। বিশ্ব পরিমন্ডল তাঁর সকল অবদান শ্রদ্ধার সাথে গ্রহণ করছে। দাদা’র ছোট ভাই দীপক মন্ডল। দীপক এর সাথেও বছর বিশেক পূর্বে আমার বেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ সময় কাটে। তিনি এখন এইচএসবিসি ব্যাংক এর কর্মকর্তা। মাসি এবং মেসো মশাই এর বিদেশ ভ্রমণ পুত্র-পুত্রবধূদের সাথে সময় কাটানোর ইতিবৃত্ত পাই দীপক এর নিকট হতে। মানিকগঞ্জ শহরের মানুষ হিসেবে কিরণ্ময় দাদা’র পরিবারের সাফল্য গাঁথা নিয়ে মানিকগঞ্জের গর্ব আকাশসম।

অনন্তধ্বনি প্যারিস এর শ্লোগান হচ্ছে মানুষের কল্যাণে সকল উচ্চারণ ধ্বনিত হোক অনন্তকাল। ০৮ মে ২০২১ এর হতে অনন্তধ্বনি প্যারিস এর সকল আয়োজনে আমি লাইভে থেকে উপভোগ করি। একটি বা দুটি আয়োজনে আমার পরিপূর্ণভাবে সময় দেওয়া সম্ভব হয়নি। সেটি পরে দেখে পূর্ণতা গ্রহণের চেষ্টা করি। ২১-২৩ মে ২০২১ তিন দিনব্যাপী আয়োজন করা হয় প্রেম-দ্রোহ-সাম্য-সম্প্রীতির কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২২তম জন্মবার্ষিকী; শিরোনাম নতুন পথের যাত্রা পথিক। তিন দিনের পর্বে অংশগ্রহণ করেন সঙ্গীত শিল্পী তানিয়া পাল, অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর, সঙ্গীত শিল্পী রোজী মজুমদার, শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় নেত্রকোণা’র উপাচার্য অধ্যাপক ড. রফিক উল্লাহ খান, আবৃত্তি শিল্পী নাঈমা সিদ্দিকা, সঙ্গীত শিল্পী আশিক সরকার, আবৃত্তি শিল্পী সুমন্ত্র সেনগুপ্ত। সঞ্চালনায় কিরণ্ময় মন্ডল। অধ্যাপক ড. রফিক উল্লাহ খান মানিকগঞ্জের আরেক দিকপাল শিক্ষাবিদ। বাড়ি দৌলতপুরে। সঙ্গীত এবং প্রাসঙ্গিক আলোচনা চলছে অনলাইনে। ঘরে বসেই বিশ্বের নানান প্রান্তের মানুষ অংশগ্রহণ করছেন। অনলাইনের বাড়তি সুবিধা আলোচক এবং শিল্পীর সাথে কথপোকথনে যোগাযোগ। শ্রোতার মন মনন ইচ্ছে অনিচ্ছা গতিপথ আয়োজক অনুভব করতে পারেন। এতে প্রাণের সঞ্চার ঘটে। কিরণ্ময় মন্ডল দাদার শ্রুতিমধুর সঞ্চালনায় আয়োজন আরও হৃদয়গ্রাহী হয়ে উঠে। বাংলা সংস্কৃতির সমৃদ্ধকে তুলে এনে বিশ্ব দরবারে উপস্থিত করানো; কিরণ্ময় মন্ডল এর এক অনবদ্য সৃষ্টি অনন্তধ্বনি প্যারিস।

অনন্তধ্বনি প্যারিস এর স্থপতি কিরণ্ময় মন্ডল ও সঙ্গীত শিল্পী রোজী মজুমদার

ফ্রান্সের ‘সঙ্গীত উৎসব’ থেকে চার দশকের যাত্রা পথে ২১ জুন ২০২১ হচ্ছে বিশ্বময় বিশ্ব সঙ্গীত দিবস। এ উপলক্ষে অনন্তধ্বনি প্যারিস এর বিশেষ আয়োজন। কিরণ্ময় মন্ডল অসাধারনভাবে বাংলা সঙ্গীতকে এ আয়োজনে সামিল করেন। তিনি উপহার দিলেন বিশ্ব সঙ্গীত সভায় বাংলা গানের পরম্পরা ০৫ জুন থেকে ২৫ জুলাই ২০২১; শেকড়ের সন্ধানে কীর্তন থেকে আধুনিক। আমরা মোনালিসা ভট্টাচার্য এর কীর্তন শুনে মুগ্ধতায় ভেসে যাই। আত্মার শান্তি অনুভব করি। নিজেকে আবিষ্কারের পথ খুঁজে পাই। এরপর কিরণ্ময় মন্ডল উপহার দিলেন শাক্ত পদাবলী। নিয়ে আসেন বাংলা থিয়েটার সঙ্গীত। ড. দেবজিত বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা থেকে যোগ দেন। অনেক উচুঁ মার্গের মানুষ। তাঁর সংগ্রহাশালার ভান্ডার বিশালতায় ভরপুর। থিয়েটার সঙ্গীত থেকে বাংলা লোকজ জীবনের অনেক অজানা উম্মোচিত হলো। মাঝি গুণ টানেন। তিনি গান গেয়েই সেটি করেন। শ্রমিক ইট ভাঙ্গেন। সেখানেও সঙ্গীত। কৃষক মাঠে ফসলের সাথে আছেন। গান আছে সেথায়ও। এভাবেই লোকজ গান ক্রমে থিয়েটারে চলে আসে। থিয়েটার সেতো মানুষকে নিয়েই। ২৩ জুন ২০২১ এ কিরণ্ময় মন্ডল দাদা নিয়ে এলেন ঠাকুর বাড়ির গান ও রবীন্দ্রনাথ। এ পর্বে উপস্থিত ছিলেন শিল্পী দম্পতি স্বপন সোম এবং দেবারতি সোম। দুজনেরই রয়েছে সঙ্গীতে গভীর পান্ডিত্য। রবীন্দ্র সঙ্গীতের ভিত্তিই হচ্ছে ঠাকুর বাড়ির গান। সহজ সরলভাবে কঠিন বিদ্যাকে অনন্তধ্বনি প্যারিস সাধারনের মাঝে আনন্দের মধ্য দিয়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে। বিস্ময় আয়োজন এবং সৃষ্টি।

০৪ জুলাই ২০২১ অনন্তধ্বনি প্যারিস উপহারে নিয়ে আসে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অতুলপ্রসাদ সেন, রজনীকান্ত সেন এর সঙ্গীত। কিরণ্ময় মন্ডল এর সঞ্চালনার সাথে এদিন ছিলেন সঙ্গীত শিল্পী ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়। অত্যন্ত গুণী শিল্পী। ১১ জুলাই ২০২১ কিরণ্ময় মন্ডল দাদা নিয়ে এলেন তাঁর ভাগ্নে লোকসঙ্গীত গবেষক শিল্পী কিরণ চন্দ্র রায়কে। দুজনের সম্পর্ক পূর্বে জানা ছিল না। শিল্পী কিরণ চন্দ্র রায় লোক সঙ্গীতে মানিকগঞ্জের গর্ব, বিশ্ব গান দরবারের একজন আইকন। শিল্পী কিরণ চন্দ্র রায় এর সাথে ঘটল অনন্তধ্বনি প্যারিস এর শ্রোতামন্ডলীর এক বন্ধন গীত ও কথন। শিল্পী কিরণ চন্দ্র রায় লোক সঙ্গীতকে এদিন এমনভাবে পরিবেশন করেন। এতে এক আয়োজনে পুরো বাংলাদেশের লোকজ সঙ্গীততে দেখতে পাই। এ আয়োজনের ব্যাপ্তি ঘটলো ২ ঘন্টা ১৫ মিনিট। এ সময়ের মধ্যে তিনি চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, উত্তর বঙ্গ, দক্ষিণ বঙ্গ, ফরিদপুর, বরিশাল, মানিকগঞ্জ, মধ্য অঞ্চল ভিত্তিক সঙ্গীত পরিবেশন করেন। সাথে গানের উৎপত্তি, প্রেক্ষাপট, সবই চলে আসে আলোচনায়। একই উত্তর বঙ্গে জেলা ভিত্তিক গানের পার্থক্যও তিনি তুলে ধরেন। শ্রোতামন্ডলী অনুরোধ জানান কিরণ চন্দ্র রায়কে নিয়ে আরও কয়েকটি পরিবেশনা আয়োজনের জন্য। মানিকগঞ্জের ভবা পাগলার উপরও বিস্তর আলোচনায় এ গুনী সাধক সম্পর্কে জানার সুযোগ ঘটল। সুফী ও সাধকবৃন্দ মানিকগঞ্জকে সমৃদ্ধ করে তোলেন।

লালন ও লোক সঙ্গীত আয়োজনে ১৮ জুলাই ২০২১ চলে আসেন শিল্পী চন্দনা মজুমদার। শিল্পী চন্দনা মজুমদার পৌনে তিন ঘন্টা অনন্তধ্বনি প্যারিসকে প্রাণ উজাড় করে সঙ্গীত পরিবেশন করেন। সাথে লালন এবং আখড়া নিয়ে বিশদ আলোচনা। মামা শ্বশুড় কিরণ্ময় মন্ডল এবং ভাগ্নে বধূ শিল্পী চন্দনা মজুমদার এর যুগল উপস্থিতি। আমরা মানিকগঞ্জবাসী গর্বিত; শিল্পী চন্দনা মজুমদারকে পেয়েছি বধূ হিসেবে। তিনি এখন শুধু কুষ্টিয়া’র লালন কন্যা নন। মানিকগঞ্জবাসীর মনের মানুষ, দেশের লোক সঙ্গীতের প্রধান শিল্পী। ২৫ জুলাই ২০২১ আধুনিক গানের স্বর্ণযুগ নিয়ে হাজির হলেন শিল্পী বিজন চন্দ্র মিস্ত্রী ও শিল্পী রোজী মজুমদার। পরের সপ্তাহে ০১ আগস্ট ২০২১-এ পেয়েছি শিল্পী মাহমুদুল হাসান ও শিল্পী অর্চনা মালাকারকে। ০৭ আগস্ট অনন্তধ্বনি প্যারিস এর আয়োজন সঞ্চালনায় ছিলেন বৌদি সঙ্গীত শিল্পী রোজী মজুমদার। এদিন শিল্পী ছিলেন অদিতি চক্রবর্তী।

২০ আগস্ট ২০২১ হতে আয়োজিত হয় বেশ কয়েকটি পর্ব রবীন্দ্র স্মরণ: জীবনে রবীন্দ্রনাথ, যাপনে রবীন্দ্রনাথ; চিরসখা হে; শ্রাবণের ধারার মতো। এসব অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সঙ্গীত শিল্পী নমিতা রায় চৌধুরী, আবৃত্তি শিল্পী রাশেদ হাসান, আবৃত্তি শিল্পী দেওয়ান সাঈদুল হাসান, আবৃত্তি শিল্পী লিজা চৌধুরী, সঙ্গীত শিল্পী আশিষ চক্রবর্তী ও সঙ্গীত শিল্পী পূর্ণিমা হেমরন। শিল্পী পূর্ণিমা হেমরন রবীন্দ্র সঙ্গীত সাওতাঁল ভাষায় পরিবেশন করেন। এটি শিল্পী পূর্ণিমা হেমরন এর অঙ্গীকার সাওতাঁলদের মাঝে রবীন্দ্র চর্চা ছড়িয়ে দিবেন। এরূপ বিচিত্র অভিজ্ঞতা আমরা সঞ্চয় করি অনন্তধ্বনি প্যারিস হতে।

চলে আসে নজরুল স্মরণ- শুন্য এ বুকে। রবীন্দ্র-নজরুল পরম্পরা। ২৫ আগস্ট হতে ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ এর বিভিন্ন পর্বের শিল্পীবৃন্দ হচ্ছেন রোজী মজুমদার, মৌলী গাঙ্গুলী, বিজন মিস্ত্রী, মাহমুদুল হাসান, দেবনিষ্ঠা জানা, নাহিয়ান দুরদানা শুচি, দেবপ্রিয় ঘোষ, আহকাম উল্লাহ, ইন্দ্রাণী দাসগুপ্ত, ড. ফকির সুমন, মাকসুরা আক্তার অন্তরা, মৌসুমী মিত্র (পাল), সায়নী ও আমিয়া রহমান।

১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ রবিবার বাংলাদেশ সময় রাত ০৮.৩০ মি.-এ যুক্ত থাকবেন কলকাতা থেকে বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী ও অধ্যাপিকা ড. শাওনী মল্লিক। অনন্তধ্বনি প্যারিস এর আয়োজনে শিরোনাম চিরচেনা পুরাতনী। আয়োজন চলাকালে কিরণ্ময় মন্ডল দাদা এবং শিল্পীবৃন্দের সাথে কথপোথনের সুযোগ রয়েছে। আমরা বিভিন্ন বিষয়ে অনুরোধ জানাই। প্রকাশ করি অভিব্যক্তি। আনন্দ উল্লাস করি। মানিকগঞ্জবাসীও নিবিড় এবং আন্তরিকতার সাথে এ আয়োজন উপভোগ করছেন। মানিকগঞ্জবাসীর উপস্থিতিতে আয়োজনের সার্থকতা আরও বৃদ্ধি পায়। কিরণ্ময় মন্ডল এবং রোজী মজুমদার প্যারিস হতে যুক্ত থাকলেও বাংলা ভাষাভাষি’র মানুষ এবং ভিন ভাষী মানব-মানবীর সরব উপস্থিতিতে একটি বৈশ্বিক মাত্রার আবহ বিরাজ করে। ঘরে বসেই আমাদের উপলব্ধি মানিকগঞ্জ বিশ্বকে বাংলা গানের ঢালি উপহার দিচ্ছে কিরণ্ময় মন্ডল এর বিনয় সরল সাবলীল মিষ্টি মধুর সঞ্চালনার মধ্য দিয়ে।

কিরণ্ময় মন্ডল ২০২০-এ প্যারিস এর মিউনিসিপ্যালিটি নির্বাচনে বাম জোটের প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত হয়ে প্রার্থী হয়েছিলেন। কোন বাংলাদেশীদের পক্ষ থেকে তিনিই ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি অংশগ্রহণ করেন। এতে অংশগ্রহণের জন্য কিরণ্ময় মন্ডলকে ৫ বার আভ্যন্তরীন নির্বাচনে জিততে হয়েছে। এ জয় মানিকগঞ্জের কিরণ্ময় মন্ডলের জয়। এ জয় মন্ডল পরিবারের বাংলাদেশের জয়। এ জয় আমাদের সকলের জয়। কিরণ্ময় মন্ডলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সম্মান বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি ভবিষ্যত প্রজন্মকে দেখিয়ে দিলেন প্যারিস এর মেয়র নির্বাচনে কমিশনার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মানিকগঞ্জের কিরণ্ময় মন্ডল রয়েছেন। তিনি দেখালেন ইউরোপের আধুনিক দেশ ফ্রান্সে এটি একটি সাহসের জয়। বর্তমান এবং আগামী প্রজন্ম অনুসরন করবো আমার দাদা কিরণ্ময় মন্ডলকে।

অনন্তধ্বনি প্যারিস এর সফলতা কামনা করি। মানুষের কল্যাণে সকল উচ্চারণ ধ্বনিত হোক অনন্তকাল।

কড়চা/ আর আই টি

Facebook Comments
ভাগ