অনন্তলোকে ভাল থাকুন আপনারা/ সাইফুদ্দিন আহমেদ নান্নু

বামে কফিল উদ্দিন মোল্লা এবং ডানের ছবি সুকুমার গুপ্ত

আমার শহর,আমার পৃথিবী। এই পৃথিবীর অনেক মানুষ আছেন, ছিলেন যাঁদের পড়তে পারি, পড়তে পারতাম। অদৃশ্য, কিন্তু ভীষণ শক্ত সুতোয় বাঁধা একটা হৃদয়ের সম্পর্কও আছে এঁদের সাথে।

অথচ প্রতিদিনই কেউ না কেউ সেই ভীষণ শক্ত সুতোগুলোকে অনায়াসে, নিঃশব্দে ছিঁড়ে ছিঁড়ে টুপটাপ চলে যাচ্ছেন। ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে আমার পৃথিবীর পড়তে পারা মুখগুলো।

৪ দিন আগে চলে গেলেন শহরের চেনা নাম, চেনামুখ, বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা “কফিল মাস্টার”। এ নামের আড়ালে ঢাকা পরে গেছে স্যারের কফিল উদ্দিন মোল্লা নামটি। মৃত্যুর খবর জানার পরও স্যারকে নিয়ে কিছু লিখিনি। চলেযাবার দিনলিপি লিখতে আর ভাল লাগেনা।

কফিল স্যার ছাত্রজীবন থেকেই প্রগতিশীল রাজনীতির সাথে জড়িয়ে ছিলেন। জেল খেটেছেন, ছাত্রসংসদ নির্বাচন করে জিতেছেন, কৃষকসংগঠন করেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের সাথে লড়াই করে দেশ স্বাধীন করেছেন। নবগ্রাম হাইস্কুলের প্রতিষ্ঠাকালে শিক্ষক হিসেবে পেশাগত জীবন শুরু করেন, অবসর নেন জয়নগর হাইস্কুলের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক হিসেবেই। শিক্ষকতা, সমাজসেবা, রাজনীতি, আমৃত্যু একসাথে করে গেছেন। প্রতিটি ভালকাজে তিনি থাকতেন অভিভাবকের মত। আদর্শ আর সততার প্রশ্নে আজীবন চুল পরিমাণ ছাড় দেননি তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার সকালেই মাইকের শব্দ,বাসার সামনের রাস্তা দিয়ে কেউ একজন দ্রুতচলা রিক্সায় বসে কি যেন বলছেন। এই বলার ধরণ, সুরটা আমার চেনা । এই সুর “না ফেরার দেশে” চলে যাওয়া মানুষদের চলে যাবার ঘোষণা।

কানপেতে রইলাম, শুনলাম। আমার পৃথিবীর আরেকটি পড়তে পারা মুখ, সুকুমার গুপ্ত। আমরা ডাকতাম “গুপ্তদা” বলে। আজ সকালে তিনিও চলে গেলেন।
সুকুমার দা সারাটি জীবন রাজনীতি করেই পার করলেন। না চাইলেন অর্থ বিত্ত,না পেলেন সম্মানজনক পদ পদবী। নিরবে দলকে শুধু দিয়েই গেছেন। রাজপথে ছিলেন, মুক্তিযুদ্ধ করেছেন বীরত্বের সাথে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও হেঁটেছেন নিরবে।

প্রার্থনা করি, অনন্তলোকে ভাল থাকুন আপনারা।

কড়চা/ এস এ এন

Facebook Comments
ভাগ