একজন মানিকগঞ্জ পৌরবাসীর ভাবনা/ রুহুল ইসলাম টিপু

একজন মানিকগঞ্জ পৌরবাসীর ভাবনা

রুহুল ইসলাম টিপু

আমি জন্মসূত্রে মানিকগঞ্জ পৌরসভার নাগরিক। রাজধানী ঢাকা হতে ৫১ কিলোমিটার পশ্চিমে কালিগঙ্গা নদীর তীরে এটি অবস্থিত। নাগরিক হিসেবে মানিকগঞ্জ পৌরসভা নিয়ে আমার রয়েছে অফুরন্ত ভাবনা। এটি উপস্থাপনে তথ্যের প্রয়োজন। দ্বারস্থ হলাম ওয়েব সাইট উইকিপিডিয়া এবং জাতীয় তথ্য বাতায়নের পাতায়। ২৮ ডিসেম্বর ২০২০ মানিকগঞ্জ পৌরসভার মেয়র এবং কাউন্সিলর পদসমূহে নির্বাচন। চলে যাই বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের তথ্য ভান্ডারে; এ তিন উৎস আমার নির্ভরতার জায়গা। তথ্য বিভ্রাট হলে ক্ষমা করবেন। আমার বাবা এ শহরে ঢুকেন ভিক্টোরিয়া স্কুলে পড়তে এসে; যেটি বর্তমানে মানিকগঞ্জ সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়। তিনি ১৯৫৫ সাল ব্যাচে ম্যাট্রিকুলেশন উত্তীর্ণ। আমি ১৯৮৩ সালে এসএসসি পাস করি। মানিকগঞ্জ পৌরসভার সাথে আমাদের সম্পর্ক নিবিড়। এর পরিবর্তন, বিবর্তনের সাথে কম বেশি আমরা জড়িত। নাগরিকবৃন্দ স্বপ্ন দেখেন, মানিকগঞ্জ পৌর শহর হবে বিশ্বমান সম্পন্ন।

ইটালীর ভেনিস এর ন্যায় আমি মানিকগঞ্জ শহরকে দেখতে চাই। এটি মানিকগঞ্জবাসীর সাথে আমার প্রত্যাশা। ভেনিসের লোকসংখ্যা ৬০ হাজার। অথচ প্রতি বছর ৩০ মিলিয়ন পর্যটক সারা পৃথিবী থেকে ভেনিসে আগমন করেন। ভেনিস শহরে কি আছে, যেটি আমার মানিকগঞ্জে নেই অথবা ভেনিস কত পুরাতন শহর, কিভাবে বিশ্ব নন্দিত হলো এসব নানাবিধ তথ্য গুগল-এ রক্ষিত। এরকম বিশ্বের নানান শহরের উন্নয়ন পরিকল্পনা আমরা গ্রহণ করতে পারি। আমি ভেনিসকে একটি উদাহরণ হিসেবে গ্রহণ করেছি। শহর উন্নয়ন পরিকল্পনায় নাগরিকের সম্পৃক্ততা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নেতা, নেতৃত্ব এবং নাগরিকের অংশগ্রহণ মিলে মিশে শান্তির পরশেই গড়ে উঠতে পারে প্রিয় শহর আধুনিক মানিকগঞ্জ পৌরসভা। এ প্রসঙ্গে কড়চা’য় ০৫ ডিসেম্বর ২০২০-এ প্রকাশিত স্বাস্থ্য মন্ত্রী’র একটি কথা জেলাবাসী হিসেবে আমাকে বেশ আনন্দ দিয়েছে। তিনি বলেন, মানিকগঞ্জ পৌরসভা হচ্ছে আমাদের ড্রইং রুম। তাকে সাজাতে হবে। এ সাজানো মানেই হচ্ছে মানিকগঞ্জের উন্নয়ন। আধুনিক শহর বিনির্মাণে সরকারের ঐকান্তিক ইচ্ছার প্রতিফলন।

আমরা বাংলাদেশীরা আজ পুথিবীর বিস্ময়। আমাদের রয়েছে ৫০ বছরের বিশ্ব কাঁপানো অর্জন। কোভিড-১৯ এর কারণে অনেক দেশের প্রবৃদ্ধি স্থবির, কম বা নেতিবাচক হয়েছে বা হচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধিকে প্রতিযোগিতামূলক স্থানে রেখে উর্ধ্বমূখীর প্রত্যাশা করছে। এর মধ্যে অবশ্যই আমাদের মানিকগঞ্জ পৌরসভাও রয়েছে। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী মানিকগঞ্জের জনসংখ্যা ৭১ হাজার ৬ শত ৯৮ জন। আয়তন ২৩.১১ বর্গকিলোমিটার। শহরের স্বাক্ষরতার হার ৬৯.১%। ২০২০ এসে এ সংখ্যা অবশ্যই বৃদ্ধি পেয়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দুটি সরকার কেন্দ্রীয় সরকার অন্যটি স্থানীয় শাসন বা সরকার। স্থানীয় শাসন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়াধীন প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় শাসন সম্পর্কে সংবিধানের ৫৯ এবং ৬০ অনুচ্ছেদে সন্নিবেশিত রয়েছে। অনুচ্ছেদ ৫৯ (১) এ বলা হয়েছে, আইনানুযায়ী নির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠানসমূহের উপর প্রজাতন্ত্রের প্রত্যেক প্রশাসনিক একাংশের স্থানীয় শাসনের ভার প্রদান করা হইবে। স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা সংবিধান প্রদত্ত।

১৯৬০ সালে মানিকগঞ্জ টাউন কমিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ লোকাল কাউন্সিল অ্যান্ড মিউনিসিপাল কমিটি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অর্ডার, ১৯৭২ অনুযায়ী মানিকগঞ্জ টাউন কমিটিকে মানিকগঞ্জ পৌরসভায় রূপান্তর করা হয়। ১৯৮৪ সালে মানিকগঞ্জকে জেলা শহরের মর্যাদা দেওয়া হয়। ১৯৯৭ সালের ২৭ মার্চ মানিকগঞ্জ পৌরসভাকে ‘ক’ শ্রেণির (১ম শ্রেণি) পৌরসভায় উন্নীত করা হয়।

মানিকগঞ্জ পৌরসভার ওয়েবসাইটে সেবাসমূহের যে বিবরণ রয়েছে সেগুলো হচ্ছে, জাতীয়তা/চারিত্রিক সনদ, জন্ম-মৃত্যু সনদ, জন্ম নিবন্ধিকরণ, অবিবাহিত সনদ, দ্বিতীয় বিয়ে না হওয়া, ওয়ারিশান সনদ, হোল্ডিং নম্বরের সনদ, অনাপত্তি সনদ, অভিভাবকের বার্ষিক আয় সংক্রান্ত সনদ ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা সনদ। পৌরসভার কার্যক্রম এবং সেবাসমূহ হচ্ছে: পৌর এলাকার রাস্তাঘাট, ব্রীজ কালভার্ট ইত্যাদি অবকাঠামো নির্মাণ; পৌর এলাকার পয়:নিস্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখা; পৌর ভবনে আগন্তুকদের উদ্দেশ্য ও কারণ নির্ণয় লিপিবদ্ধকরণ; আগন্তুকদের সঠিক দিক নির্দেশনা প্রদান; বিভিন্ন প্রকার আবেদন পত্র গ্রহণ; আগন্তুকদের আবেদন পত্র লিখতে সহযোগিতা প্রদান; বিভিন্ন প্রকার মামলার নিস্পত্তি ও প্রতিবেদন প্রদান; সকল প্রকার ইমারত নির্মাণের প্ল্যান অনুমোদন; গ্যাস/পানির লাইন সংযোগের অনুমতি পত্র প্রদান; ব্যাংকের মাধ্যমে হোল্ডিং ট্যাক্স সহ সকল প্রকার রাজস্ব আদায়; বেওয়ারিশ লাশ দাফন কার্যক্রম সম্পাদন করা; ব্যবসায়ীদের সকল প্রকার লাইসেন্স প্রদান; পৌরবাসীদের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রদান; মশক ও কুকুর নিধন অভিযান পরিচালনা করা; শহর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা; বিভিন্ন মারাত্মক রোগের প্রতিষেধক প্রদান; দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে ঋণ বিতরণ; পৌরসভার রাস্তা আলোকিতকরণ; দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের আর্থিক সাহায্য করা; স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মন্দির ও বিভিন্ন উপাসনালয়ে আর্থিক অনুদান প্রদান; বনায়ন করা; রাস্তাঘাট, ব্রীজ, কালভার্ট সংস্কার ও মেরামত করা; বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানা প্রদান; সময়ে সময়ে দু:স্থদের মাঝে সরকারি ত্রাণ বিতরণ; বিভিন্ন প্রকার ভাতা প্রদানে সরকারকে সহায়তা করা (বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা); টি.আর. ও কাবিটা বাস্তবায়ন করা এবং বন্যা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর জনজীবন সচল রাখা।

কল্পনার ভেনিস বাস্তবে রূপ দিতে অবশ্য দীর্ঘমেয়াদী সময় এবং বৃহৎ পরিকল্পনার প্রয়োজন। আমরা দেশের ভিতরেও ঘুরে দেখতে পারি। বাংলাদেশের কোন শহর কত উন্নত, কত সৌন্দর্য্যমন্ডিত, কতটা শান্তিময়, এসব সূচকের সাথে তুলনামূলক চিত্র বলে দিবে মানিকগঞ্জের অবস্থান এবং খুঁজে পাওয়া যাবে উন্নয়নের পন্থা। আমার কর্ম জীবনের ক্ষুদ্র একটি অভিজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি দ্বীপ জেলা ভোলাকে নিয়ে। ভোলার জেলা শহরের সাথে উপজেলাসমূহের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো; তবে মনপুরা মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন মেঘনা মোহনার একটি দ্বীপ উপজেলা। নব্বই দশকের মাঝে জেনেছিলাম ভোলা জেলার বড় একটি সমস্যা নদী ভাঙ্গন। আশির দশকের শুরুর দিকে ভোলার নেতৃবৃন্দ চরফ্যাশন থেকে ভোলা সদর পর্যন্ত প্রায় ১১৭ মাইল পায়ে হেঁটে জেলার সমস্যাসমূহ চিহ্নিত করেছিলেন। নদী ভাঙ্গন রোধে প্রচুর বনায়ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য জনগণকে ভোলার নেতৃবৃন্দ উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। ফলশ্রুতিতে সে সময় পর্যন্ত দেখতে পাওয়া গিয়েছিল নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্তরা বৃক্ষ বিক্রি করে পুনরায় উঠে দাঁড়িয়েছে, আবার বনায়ন করেছে, নতুন বাড়ি বানিয়েছে; প্রচুর বনায়নের ফলে স্বাভাবিক জীবন যাপন অব্যাহত রাখা সহজতর হয়েছে। মানিকগঞ্জ পৌরসভার মাস্টার প্ল্যান এবং এ আলোকে কার্যক্রম বাস্তবায়নের দায়িত্ব নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের উপর বর্তায়। জনগণকে সাথে নিয়েই নেতৃবৃন্দ সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং উন্নয়নের কর্মসূচি গ্রহণ করবেন। এটিই স্বাভাবিক রীতি। টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি হচ্ছে অংশীদারীত্ব। আমাদের রয়েছে ৪৮ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মানিকগঞ্জ পৌরসভা।

উন্নয়ন হবে সুষম, বৈষম্যহীন। তাহলেই সামগ্রিক উন্নয়ন দৃশ্যমান হয়। ওয়েব সাইট থেকে সংগৃহীত মানিকগঞ্জ পৌরসভার এলাকাগুলো হচ্ছে; ওয়ার্ড নং-১: তাতীকালিয়ানী, বের গজারিয়া, পশ্চিম সেওতা, উত্তর সেওতা, শহীদ গোলাপ কিবরিয়া তজু সড়ক, শহীদ গোলাম দস্তগীর টিটু সড়ক, শহীদ স্মরণী সড়ক, হাইওয়ে, মানরা, জয়রা (ব্লক-এ, ব্লক-বি), রমজান আলী কলেজ রোড ও ভুলজয়রা। ওয়ার্ড-২: নারাঙ্গাই, উচুটিয়া, বৈতরা, কান্দরকান্দি, ঝুক্কুরিয়া, খিলিন্দা, বড়াই ও নবগ্রাম। ওয়ার্ড নং-৩: বড়াই, নদীবলবন্ত, নওখন্ডা (ব্লক-এ, ব্লক-বি), বেলায়েত হোসেনে খান সড়ক, পোড়রা (ব্লক-এ, ব্লক-বি), গঙ্গাধরপট্টি (ব্লক-এ, ব্লক-বি), বনগ্রাম আবাসিক এলাকা ও শহীদ স্মরণী লেন। ওয়ার্ড নং-৪: মালঞ্চ, বগজুরী, রাইন্থা, মত্তপটল, ঢাকুয়াপাড়া, চরহিজুলী, হিজুলী ও ড. অর্মত্য সেন সড়ক। ওয়ার্ড নং-৫: পূর্ব দাশড়া। ওয়ার্ড নং-৬: শহীদ রফিক সড়ক, মানিকগঞ্জ বাজার, নগর ভবন সড়ক, শান্তনু রায় স্মরণী, পৌর ভূমি অফিস লেন, কালীবাড়ী লেন, চাঁন মিয়া লেন, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ লেন, পশ্চিম দাশড়া (ব্লক-এ) ও পশ্চিম দাশড়া। ওয়ার্ড নং-৭: পৌলী, কান্দাপৌলী, দক্ষিণ সেওতা, বান্দুটিয়া, ক্যাপ্টেন আঃ হালিম চৌধুরী সড়ক, শহীদ মিরাজ তপন স্টেডিয়াম লেন ও বেউথা রোড। ওয়ার্ড নং-৮: জয়নগর, আন্ধারমানিক ও চরবেউথা এবং ওয়ার্ড নং-৯: কুশের চর হেলাচিয়া, পূর্ব উড়িয়াজানী, পশ্চিম উড়িয়াজানী, কেওয়ারজানী, সন্তোষপুর, ছোট সরুন্ডি, বড় সরুন্ডি, বোয়ালিয়া, বেউথা আবাসিক এলাকা ও বেউথা রোড। এ হচ্ছে আমাদের মানিকগঞ্জ পৌরসভা।

পৌরসভার মধ্য দিয়ে এখন একাধিক মহাসড়ক। পৌরসভা তার মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকারসহ একাধিক মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করেই মানিকগঞ্জ শহরের উন্নয়ন বাস্তবায়ন করতে হবে। আমাদের নিজস্ব সৃষ্টি, কৃষ্টি, কীর্তি, ঐহিত্য, সংস্কৃতিকে লালন এবং পরিচর্যার মাধ্যমে মানিকগঞ্জের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য তুলে ধরতে হবে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের সাথে সাথে শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতির সমন্বয় করেই মানিকগঞ্জ ও তার ভাবমূর্তিকে দেশের সর্বত্র এবং দেশের বাইরের পরিমন্ডলে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। ধীরে ধীরে বাড়াতে হবে অভ্যন্তরীন ও বাইরের পর্যটককে আকর্ষণের সামগ্রিক ব্যবস্থা। ক্রমেই গড়ে উঠবে স্বপ্নের ভেনিস এর ন্যায় মানিকগঞ্জ শহর।

সংবিধান স্বীকৃত আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনার ৪ নীতির অন্যতম একটি গণতন্ত্র। সংবিধানের অনুচ্ছেদ-১১ এ বলা হয়েছে, প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হইবে। নির্বাচন কমিশন ২৮ ডিসেম্বর ২০২০-এ মানিকগঞ্জে পৌর মেয়র এবং কাউন্সিলরবৃন্দ নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। মানিকগঞ্জবাসী স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক আনন্দমূখর পরিবেশে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রত্যাশা করছে। নির্বাচন কমিশনের ওয়েব সাইটে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি’র পক্ষ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তথ্য রয়েছে। উভয়ই অর্থ প্রাপ্তির সম্ভাব্য উৎসসমূহ উল্লেখ করেছেন। এটি নির্বাচনের আইনী বিধান। ১৭ ডিসেম্বর ২০২০ এর নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের পরিপত্র-২ এর ৮ নং এ বলা হয়েছে, মনোনয়নপত্রের সাথে আয়কর রিটার্ণের কপি দাখিল করতে হবে। ৬ নং-এ ব্যাংক হিসাব খোলা’র উল্লেখ রয়েছে; ৬ (গ)-এ বলা হয়েছে, নির্বাচন ব্যয়ের যে রিটার্ণ জমা দিতে হবে, তার সাথে উক্ত একাউন্টের ব্যাংক স্টেটমেন্টও জমা দিতে হবে। নির্বাচনী ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনয়নের এসব হচ্ছে আইনগত পদক্ষেপ। আয়কর রিটার্ণ-এ সম্পদ এর বিবরণী রয়েছে। এতে নেতাদের সম্পদ উঠা নামার চিত্র সাধারণ নাগরিকের পর্যবেক্ষণের সুযোগ থাকে। নেতারা আরও দায়িত্বশীল হবেন। আমাদের শ্রদ্ধেয় নেতৃবৃন্দ নেতৃত্বের গুণাবলীর উৎকর্ষের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন।

আমি যেমন ভেনিস শহরের ন্যায় আমার মানিকগঞ্জকে দেখছি; একইভাবে আমার অন্ধকারকে তুলে ধরতেও কার্পণ্য করছি না। প্রতিবার নির্বাচনের পর আমি আমার নির্বাচিত মেয়র, কাউন্সিলরবৃন্দকে লিখিতভাবে অভিনন্দন জানাই। এর পরপর আমাদের বাড়ির সামনে প্রায় ১০০ থেকে ২০০ ফুটের একটি রাস্তা মূল সড়কের সাথে মিলিত হয়েছে। এটি সংস্কারের জন্য আবেদন করি লিখিত এবং মৌখিক উভয়ভাবেই। আমাদের বেউথার বাড়ি ১৯৭৬ সালের। মানিকগঞ্জ পৌরসভা সামনের রাস্তা উন্নয়নের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। সম্ভবত: ১৯৯৬ সালে একবার পৌরসভা ইটের সলিং এর কাজ করেছিল। আমার বাবার বয়স ৮৫, মায়ের বয়স ৭৬। তারা অসুস্থ। আমাদের বাড়ির ভিতর কোন অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ সম্ভব নয়। এ লেখায় ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে আসার জন্য দুঃখিত। বিশেষ করে অতি বৃষ্টিতে ভয়াবহ রকম জলাবদ্ধতা বসবাসের অযোগ্য হয়ে দাঁড়ায় আমাদের বাড়িটি। বাবা মা আসতে চান না মানিকগঞ্জের মায়ায়; আবার স্বাভাবিকভাবে জীবন যাপনের নিশ্চয়তাটুকু পাওয়া যায় না। নাগরিকের সেবা সনদের সাথে এ চিত্র মারাত্মকভাবে সাংঘর্ষিক। আগামীর নির্বাচিত নেতৃত্ব আমাদেরসহ সকলের দিকে সমভাবে দৃষ্টিপাত করবেন। এতেই আমাদের বড় আনন্দ এবং আমরা খুশীতে আত্মহারা থাকবো। আমরা সব সময় আপনাদের সাথেই থাকতে চাই।

লেখক রুহুল ইসলাম টিপু

আমাদের ভালোবাসার মানিকগঞ্জ পৌরসভা আমার নিকট ইটালীর ভেনিস। ২৮ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখের নির্বাচনে নির্বাচিত নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। আমাদের বিশ্বাস পৃথিবীর মানুষ একদিন ঠিকই মানিকগঞ্জের প্রতি আকৃষ্ট হবেন। আমাদের নেতৃবৃন্দ গড়ে তুলবেন আধুনিক পর্যটন, শিল্প, সংস্কৃতি, ঐতিহ্যে লালিত নগরী মানিকগঞ্জ।

কড়চ/ আর ই টি

Facebook Comments
ভাগ