খুঁজে ফিরি তারে/ জান্নাত চাঁদনী

মুমিনুন্নিসা কলেজে ইন্টারমিডিয়েট ভর্তির জন্য ভর্তি পরিক্ষা দিচ্ছি। একঘন্টা পরিক্ষার সময় কিন্তু আমাকে আধাঘন্টায় শেষ করতে হবে।কারন,একই সময়ে অন্য একটি কলেজে আমার ভর্তি পরীক্ষা ছিলো। তাই খুব মনোযোগ দিয়ে পরিক্ষা দিচ্ছিলাম। এমন সময় হঠাৎ আমার পিঠে পেছন থেকে কেউ একজন টোকা দিলো।

আমি পেছন দিকে তাকাতেই হতবাক হয়ে গেলাম।অনিন্দ্য এক সুন্দরী আমার ঠিক পেছনে বসে পরীক্ষা দিচ্ছে। আমি প্রথম দেখাতেই তার প্রেমে পড়ে গেলাম। মেয়েরা যে মেয়েদের প্রেমে পরতে পারে আমি সেদিনই সেটা প্রথম উপলব্ধি করেছিলাম।

যাহোক সে আমাকে টোকা দিয়েছিলো তাকে পরিক্ষায় একটু হেল্প করার জন্য। আমার হাতে সময় কম ছিলো তাই যতটুকু পারলাম হেল্প করে আমার নিজের পরিক্ষা শেষে বের হয়ে গেলাম। আর সাথে নিয়ে গেলাম চোখের পাতায় মনের খাতায় তাহার ছবিখানা।

চান্স পাওয়ার পর যখন সিদ্ধান্ত হলো আমি মুমিনুন্নিসায় ভর্তি হচ্ছি। তখন দিনরাত মনে মনে আল্লাহর কাছে চাইতে থাকলাম সেই নাম না জানা পরীটাও যেন আমার সাথে আমার কলেজে ভর্তি হয়।

আমি মন থেকে সবসময় একটা জিনিস বিশ্বাস করি মন থেকে কিছু চাইলে আল্লাহ সেটা নিশ্চয়ই পূর্ণ করেন।

অনেক প্রতিক্ষার পর আসল সেই প্রথম ক্লাসের দিন। মনে মনে শুধু তাকে ভেবেই ক্লাসের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। আমার সেদিন কলেজে পৌঁছাতে পৌঁছাতে ক্লাস শুরু হয়ে গেছিলো। তাই তরিঘরি করে স্যারের সামনে দিয়েই ক্লাসে ঢুকে গেলাম। পুরো ক্লাস ভর্তি ছিলো তাই বাধ্য হয়েই আমাকে পিছনের দিকে চলে যেতে হলো। আর সেই মুহূর্তে আমাকে অবাক করে দিয়ে স্যারের সামনেই সামনের বেঞ্চ থেকে দাঁড়িয়ে একটা হাত আমার দিকে ইশারা করতে লাগলো।

আমার বুঝতে বাকী রইলো না, সেই নাম না জানা পরীটা সেই অল্প দেখায় ঠিক আমার মতো করেই তার স্মৃতিপটে আমার মুখখানাও এঁকে নিয়েছিলো। সেদিনই জানলাম ফুলের প্রতিশব্দে তাহার নাম “পুষ্প”। কলেজে তখন আমাদের আটজনের একটা ফ্রেন্ডসার্কেল তৈরী হয়।

আমি থাকতাম কলেজের হোস্টেলে, পুষ্প থাকতো কয়েকজন মেয়ে মিলে একটা বাসা ভাড়া করে আর অন্যরা সবাই স্হানীয়। নিজের বাসা থেকেই ক্লাস করতো। পুষ্প আর আমার বন্ধুত্বের গভীরতা ছিলো অনেক বেশি। আমরা একসপ্তাহের জন্যও বাড়িতে গেলে দু’জন দু’জনকে চিঠি লিখতাম। ওকে আমাদের বাড়িতেও নিয়ে গিয়েছি কয়েকবার। ওহ ওর বাড়ি ছিলো নেত্রকোনায়। ওখানে আমার কখনো যাওয়া হয়নি। হঠাৎই পুষ্পর বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে প্রনয় গড়ে উঠে এরপর বিয়ে।

তারপর কিছুদিনের মধ্যেই স্বামীর সাথে সে কানাডায় পাড়ি জমায়। আর আমি হারাই তাকে চিরতরে। কিন্তু শারীরিক ভাবে হারালেও মনের মনিকোঠায় সে রয়ে গেছে আজও। ফেবু আইডি পাওয়ার পর থেকে বিভিন্নভাবে তার নাম লিখে সার্চ দিয়েই চলেছি যদি আবার একবারের জন্য হলেও সেই মুখটা ভেঁসে উঠে আমার চোখের পাতায়।

অপেক্ষার প্রহর গুনে চলেছি প্রতিনিয়ত। জানিনা কোনদিন ওকে আর খুঁজে পাবো কিনা। তবে আমি তাকে খুঁজে যাবো অনন্তকাল ধরে। যদি সে কখনও ফিরে আসে সেই আশায়।

Facebook Comments
ভাগ