দু:সময়ের সাহসী সহযোদ্ধা কফিল ভাইও চলে গেলেন/ দীপক কুমার ঘোষ

নাম কফিল উদ্দিন। সরকারি হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা হিসেবে বছর খানেক আগে অবসরে যান। জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পশ্চিম দাশড়া কবরস্থানে মাটিমঞ্জুল করে মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ বিদায় জানালাম। বিদায় বেদনার এবং কষ্টেরও।

ছাত্র জীবনে কলেজে পড়ালেখা আর ক্লাশ শেষে ছাত্রলীগের মিছিলে স্লোগান দেয়া যার অভ্যাসে পরিণত হয়েছিলো। আমি যখন ছাত্রলীগের জেলার সেক্রেটারী তখন কফিল ভাই যুগ্মসম্পাদক। দক্ষিন মানিকগঞ্জের পুটাইল ইউনিয়নের তৃরত্ন কফিল-অনিল-রেনু। পচাত্তরের ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে খুনী মুস্তাক-জিয়া হত্যা করার পরেই প্রতিবাদী যোদ্ধা হিসেবে তৃরত্নদের সাথে পেয়েছিলাম। অনিল জীবীকার সংগ্রামে আমেরিকা প্রবাসী হয়ে নাফেরার দেশে, আজ (৫ অক্টোবর) কফিলও চলে গেলো।

গতবছর পুটাইলে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে তার অসামান্য পরিশ্রমের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ব্যাপক কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করেন। আমি, হাসিব উদ্দিন, সাখাওয়াৎ এবং বাসুদেব মানিকগঞ্জ থেকে গিয়েছিলাম কফিল ভাইয়ের বিশেষ অনুরোধে। তিনি খুব খুশি হয়েছিলেন মানিকগঞ্জের দু’টি কর্মসূচি বাদ দিয়ে কফিল ভাইয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলাম বলে।

পচাত্তর পরিবর্তী দু:সময়ে অপেক্ষায় থাকতে হতো কখন কফিল-অনিল-রেনু তৃরত্নদের মিছিল আসবে। তারপর ছাত্রলীগের বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার চেয়ে হরতাল-মশাল মিছিল হবে।

মরনব্যাধি কেড়ে নিলো বঙ্গবন্ধুর একজন নি:স্বার্থ আদর্শবাদী প্রকৃত সৈনিককে। শুধু তাই নয় নিজের পকেটের টাকা দিয়ে সংগঠন করেছেন, কর্মীদের দু:সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। অথচ বলতেননা কাউকে।

প্রয়াত কফিল ভাই পাওয়া না পাওয়ার হিসেব কষেননি কখনো, কিন্ত সকল প্রতিবন্ধকতাকে সাহসের সাথে অতিক্রম করে সময়ের প্রয়োজনে জয় বাংলা স্লোগান আর জয় বঙ্গবন্ধু বলে বুক উচিয়ে সংগঠন আর কর্মীদের দিয়ে গেলেন অফুরান প্রেরণার উৎস।

ওপাড়ে ভালো থাকুন কফিল ভাই।

কড়চা/ ডি কে জি

Facebook Comments
ভাগ