প্রেমের ফাঁদে ফেলে চাঁদাবাজি, প্রতিবাদে মানববন্ধন

মো: শাহ আলম : প্রেমের ফাঁদে ফেলে জুলহাস-কল্পনা দম্পতির অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৭ মার্চ বিকেল ৩ টার দিকে উপজেলার কলিয়া ইউনিয়নের তালুকনগর গ্রামে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে সাবেক ইউপি সদস্য মো. লিয়াকত হোসেন, আব্দুস সালাম খান, মজনু খান, আয়েশা বেগম ও ভুক্তভোগী রুবেল খান বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, কল্পনা এলাকার যুবকদেরকে টার্গেট করে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাদের কাছ থেকে অর্থ দাবি করে। চাহিদা মত অর্থ না দিলেই সে তাদেরকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও মামলা দিয়ে হয়রানী করে। ইতিপূর্বে কল্পনা প্রতারণার মাধ্যমে তিনজনকে ডিভোর্স দিয়ে তাদের কাছ থেকে দেনমোহরসহ অর্থ আদায় করে। বর্তমানে কল্পনা তার চতুর্থ স্বামী জুলহাসের সহযোগিতায় প্রেমের ফাঁদ ফেলে অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। সম্প্রতি রুবেল নামের এক যুবককে সে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অর্থ দাবি করে। সেই অর্থ না দেওয়ায় ওই দম্পতি রুবেলের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে প্রায় দেড় শতাধিক লোক মানববন্ধনে অংশ নেয়।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, তালুকনগর গ্রামের জুলহাস ও তার স্ত্রী দির্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের কাছ থেকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিভিন্ন সময় লোকজনকে ফাঁসিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয় এই দম্পতি। এবিষয়ে ভুক্তভোগী রুবেলের চাচা আব্দুস ছালাম বাদি হয়ে গত ২৫ মার্চ দৌলতপুর থানায় একটি চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করে। অভিযোগের ভিত্তিতে দৌলতপুর থানা পুলিশ ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে কোর্টে প্রেরণ করে।

ভুক্তভোগী রুবেলের পিতা মজনু মিয়া বলেন, জুলহাসের স্ত্রী কল্পনা আমার ছেলের কাছ থেকে দেড় লক্ষ টাকা দাবি করে নগদ ২৬ হাজার টাকা নিয়েছে। বাকি টাকাও দাবি করে। আমার ছেলে টাকা দিতে অস্বীকার করলে কল্পনা বাদি হয়ে রুবেলের নামে ধর্ষন চেষ্টার একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে।

এবিষয়ে এলাকাবাসী আয়শা বেগম বলেন, কল্পনা একটি দুচ্চরিত্রের নারী। এলাকার যুবক ছেলেদের প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা দাবি কওে সে। টাকা দিতে অস্বীকার করলে বিভিন্ন সময় হয়রানি করে। এছাড়া মাঝে মাঝে কাউকে না বলে হারিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী রুবেলের চাচা ছালাম বলেন, কল্পনার পূর্বে আরো তিন বিয়ে হয়েছে। এখন চতুর্থ স্বামীর ঘর করছে। সে আমাদের এলাকার যুব সমাজকে ধবংস করে চলছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকেও হয়রানি করে। আমার ভাতিজাকেও মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দিয়েছে এই দম্পতি। আমি এই মিথ্যা মামলার প্রত্যাহার দাবি করছি।

এবিষয়ে তালুকনগর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ লিয়াকত হোসেন বলেন, কল্পনা ও জুলহাস দম্পতি এলাকার ছেলেদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে হয়রানি করে চাঁদাবাজি করে। আমি প্রশাসনের কাছে এই দম্পতির কঠিন শাস্তি দাবি করছি।
এবিষয়ে দৌলতপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: রেজাউল করিম জানান, গত ২৫ মার্চ কল্পনা ও জুলহাসের নামে একটি চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন গাংবিহালী গ্রামের রুবেলের চাচা তালুক নগর গ্রামের ছালাম। মামলার প্রেক্ষিতে তাদের দু’জনকেই পুলিশ গ্রেপ্তার করে কোর্টে প্রেরণ করে।

কড়চা/ এম এস এ

Facebook Comments
ভাগ