বিশ্ব বাঘ দিবস আজ

ছবি সংগৃহীত

কড়চা ডেস্কঃ বিশ্ব বাঘ দিবস আজ। ২০১০ সালে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবাগে আয়োজিত এক বাঘ সম্মেলন থেকে এই বাঘ দিবসের সূচনা হয়। বিশ্বে ক্রমান্বয়ে বাঘ কমে যাওয়ার কারণে এর সুষ্ঠ পরিচর্যা এবং বসবাসের জন্য যথাপোযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করে ২০২০ সালের মধ্যে এর সংখ্যা দ্বিগুণ করার উদ্দেশ্যে এই বাঘ দিবস প্রতিষ্ঠিত হয়।

বাঘকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে ও সচেতনতা বাড়াতে আজ বুধবার বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে বিশ্ব বাঘ দিবস পালিত হচ্ছে। রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থল সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। ২০১৫ সালের বাঘশুমারির প্রতিবেদন অনুসারে, সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে মাত্র ১০৬ টি বেঙ্গল টাইগার ছিল। পরে, ২০১৭-২০১৮ বাঘশুমারিতে সেখানে ১১৪ টি বাঘ শনাক্ত করা হয়।

বন বিভাগের তথ্য মতে, ২০০১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ৪৮টি বাঘ মারা গেছে। এর মধ্যে ২২টি সুন্দরবনের পূর্ব বিভাগে এবং ১৬ টি পশ্চিম বিভাগে মারা যায়।
সুন্দরবনে এক সময় প্রায় সাড়ে ৫ শ রয়েল বেঙ্গল টাইগার বিচরণ করত। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পরিবেশ দূষণ আর চোরা শিকারিদের দৌরাত্ম্যে কমছে বাঘের সংখ্যা; এমনটাই মনে করছেন পরিবেশবিদরা।

বাংলাদেশের সুন্দরবন অঞ্চলে বাঘের সংখ্যা কমেলও একই বনের ভারতীয় অংশে বাঘের সংখ্যা দেখা দিচ্ছে আশার বাণী। ২০১০ সালে ভারতীয় সুন্দরবনে ছিল ৭০ টি বাঘ। ২০১৪ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৭৬টি। আর বাঘ নিয়ে পুরো ভারতের রিপোর্টেও দেখা দিয়েছে অগ্রগতি।

বিশ্বায়নের যুগে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে বিড়াল প্রজাতীর মধ্যে অন্যতম এই প্রাণীটি। প্রায় শতাব্দি আগেও যার সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষের উপরে ছিল। বর্তমানে তা সারাবিশ্বে কয়েক হাজারের ভিতরে এসে পড়েছে। ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ড লাইফ ফান্ডের তথ্যমতে, একশ বছর আগে সারাবিশ্বে বাঘ বিচরণ করতো এক লাখেরও বেশি। আর এখন পৃথিবীতে শতকরা ৯৫ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৯০০টি বাঘ অবশিষ্ট আছে।

বিংশ শতকের গোড়া থেকেই বন্য বাঘের সংখ্যা ৯৫ শতাংশ কমে যায়। এই বিষয়টি উপলব্ধি করার পরেই বাঘ দিবস পালনের বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু হয়। বাঘেদের স্বাভাবিক বাসস্থান রক্ষা করাই ছিল রাশিয়ায় সেন্ট পিটার্সবার্গ টাইগাই সামিটের মূল উদ্দেশ্য।

Facebook Comments
ভাগ