শিবালয় উপজেলার ফসলী জমির মাটি উজার হচ্ছে রাতের আঁধারে

সুরেশ চন্দ্র রায় : মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার বিভিন্ন নদ-নদী, খাল-বিল ও ফসলী জমি কেটে অবৈধ মাটি ব্যবসা এ উপজেলার প্রায় সারা বছরের চিত্র। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপে সিংহভাগ মাটি ব্যবসায়ী তাদের এ ব্যবসা গুটিয়ে নিলেও প্রভাবশালী কতিপয় ব্যবসায়ী দাপটের সাথে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রশাসনের নজর এড়াতে তারা এখন দিনের পরিবর্তে রাত্রি বেলা মাটি ব্যবসা করে থাকেন বলে জানা গেছে। দেখে মনে হবে অনিয়মই যেন মাটি ব্যবসায়ীদের কাছে নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। দাপটের সাথে চালিয়ে যাওয়া তাদের এ অবৈধ মাটি ব্যবসা নিয়ে প্রতিবাদ করার সাহস স্থানীয়দের না থাকলেও সুশীল সমাজ ও সচেতন মহলের মাঝে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের শিমুলিয়া মোড়ের পশিম দক্ষিণ কোণে ফসলী জমির মাটি ভেকু দিয়ে কেটে ড্রাম ট্রাকে করে রাতের আঁধারে বিক্রি করা হচ্ছে জেলা ও জেলার বাহিরের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে।

জানা যায়, শিমুলিয়া গ্রামের মৃত তফসের মোল্লার ছেলেরা তাদের ফসলী জমিতে জলাশয় তৈরির লক্ষ্যে মাটি ব্যবসায়ীদের কাছে মাটি বিক্রি করে দিয়েছেন।

মৃত তফসের মোল্লার ছেলে মতি মোল্লার সাথে এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বেশ কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি বলেন, সারা রাত ড্রাম ট্রাকের শব্দে আমরা বিব্রতকর অবস্থায় রাত্রি যাপন করি। স্থানীয় রাস্তাঘাট ও বাড়িঘর দেখে মনে হবে আমরা যেন চর এলাকায় বসবাস করি। মহাদেবপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে শিমুলিয়া মোড় পর্যন্ত রাস্তার বেহাল অবস্থায় আমরা এমনিতেই অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছি, এর মধ্যে রাতের বেলা মাটি ভর্তি ড্রাম ট্রাকের বিকট শব্দ আর ধূলাবালুতে এ এলাকা এখন বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

শুধু এখানেই শেষ নয়, রাস্তার ওপর যে বড় ব্রিজটি রয়েছে মাটি ভর্তি ড্রাম ট্রাক চলাচলের কারণে যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনা। মাটি ব্যবসায়ীদের কারণে শিমুলিয়া এলাকার ফসলী জমির মাটি যেভাবে দিনের পর দিন উজার হচ্ছে তাতে একটি সময় দেখা যাবে চাষবাদের জন্য আর কোন জমি অবশিষ্ট থাকবে না।

সচেতন মহল প্রতিবেদককে আরো বলেন, যারা সরকারি নির্দেশ অমান্য করে নিজেদের পকেট ভারী করার জন্য অবৈধ এ মাটি ব্যবসার সাথে জড়িত রযেছেন তারা মূলত দলকে মন থেকে ভালবাসেন না। দলীয় সাইনবোর্ড ব্যবহার করে যে কোন উপায়ে অর্থ উপার্জনই এদের কাছে মূখ্য বিষয়। ন্যায় অন্যায় আর বৈধ অবৈধ এদের কাছে কোন বিষয় নয়।

জনৈক মাটি ব্যবসায়ীকে ফোন দিয়ে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবাই তো এ ব্যবসা করছে, আমরা করলে দোষ কোথায়? প্রভাবশালী মাটি ব্যবসায়ী হুমকির স্বরে পাল্টা প্রতিবেদককে প্রশ্ন করেন, আপনি কোন প্রেস ক্লাবের সদস্য? আমি সাইডে আসলে আপনার সাথে কথা বলবো।

ক্ষণকাল পরে জনৈক মাটি ব্যবসায়ীর দুইজন শুভাকাক্ষী এবং কাছের মানুষ প্রতিবেদককে ফোন দিয়ে বলেন, আপনি ভাইয়ের মাটির সাইডে গেছেন কেন? ভাইকে কাজ করতে দেন। আপনি মাটির সাইড থেকে চলে আসেন।

শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বি এম রুহুল আমিন রিমন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি আপনার মাধ্যমে অবগত হলাম। খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কড়চা/ এস সি আর

Facebook Comments
ভাগ