কেমিকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড কোম্পানীতে বিনিয়োগকারীরা কোটি কোটি টাকা ফেরত পাচ্ছেন না

কড়চা রিপোর্ট : কেমিকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড কোম্পানীতে বিনিয়োগ করা কয়েক কোটি টাকা ও তার লভ্যাংশ ফেরত পাচ্ছে না মানিকগঞ্জ থেকে বিনিয়োগকারীরা। ভুক্তভোগী বিনিয়োগকারীরা টাকা ফেরতের দাবিতে মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ডাক্তার, চিকিৎসক সহকারী ও ফার্মেসীর মালিকরা হয়েছেন। এদের মধ্যে ১৪ লক্ষ টাকা বিনিয়োগকারী মানিকগঞ্জ কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডাক্তার ওসমান গনি বাদি হয়ে মামলা করেছেন।

বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মানিকগঞ্জ জেলা কার্যালয় থেকে উপ-পরিচালক হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডাক্তার রঞ্জিত কুমার মন্ডল। তিনি বলেন, ‘ডাক্তার বিনিয়োগ স্কীমে’ চুক্তিপত্রের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশের মতো মানিকগঞ্জের ৭০ থেকে ৭৫ জন চিকিৎসক, চিকিৎসা সহকারী এবং ওষুধ ব্যবসায়ী ২০০৩ সাল থেকে শুরু করে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অংকের টাকা কেমিকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড কোম্পানীতে বিনিয়োগ করেছেন। আনুমানিক বিনিয়োগের পরিমান ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা।

চুক্তি অনুযায়ী শুরুতে ১৭ শতাংশ লভ্যাংশ হিসেবে প্রতি লাখে এক হাজার ৬৬৭ টাকা হারে দেওয়া হতো। কিন্তু ২০১৭ সালে এই লভ্যাংশ কমিয়ে ১৩ শতাংশ করা হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ২০১৮ সাল পর্যন্ত লভ্যাংশ পেলেও এর পর থেকে কোম্পানীর পক্ষ থেকে কোন লভ্যাংশ দেওয়া হচ্ছে না। গত দুই বছর ধরে লভ্যাংশ না পেয়ে বিনিয়োগকারীরা রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকায় কোম্পানীর প্রধান কার্যালয়ে ঘোরাঘুরি করেও কোন লাভ হয়নি। মালিকপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তারা ব্যর্থ হয়েছেন। পরে বাধ্য হয়ে কয়েকজন বিনিয়োগকারী লভ্যাংশসহ বিনিয়োগকৃত টাকা ফিরে পেতে লিখিত আবেদন করেছেন। কিন্তু কোম্পানীর পক্ষ থেকে বিনিয়োগের টাকা ফেরত দেওয়ার কোন ধরনের প্রদক্ষেপ নিচ্ছে না। বরং প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা এখন দুর্ব্যবহার করছেন। কোম্পানীর ব্যবহারে এখন মনে হচ্ছে এই কোম্পানী বিনিয়োকৃত টাকা তাদের অন্য প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করে কেমিকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড কোম্পানীকে দেউলিয়া ঘোষণা করে বিনিয়োগকারীদের টাকা আত্মসাৎ করবে।

সংবাদ সম্মেলনে অংশ গ্রহণকারী ডা. রঞ্জিত মন্ডল ২০০৩ সালে এক লাখ, ২০০৪ সালে এক লাখ, ২০০৫ সালে এক লাখ এবং ২০০৮ থেকে ২০০৯ সালে ২৬ লাখ মিলে মোট ৩০ লাখ বিনিয়োগ করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে ডাক্তার বিকাশ চন্দ্র তরফদার এবং তাঁর স্ত্রী ডাক্তার কনক প্রভা আদিত্য ৩০ লাখ করে মোট ৬০ লাখ টাকা, ডাক্তার নরেন্দ্র কুমার রায় ৩০ লাখ টাকা, ডাক্তার মো: ওসমান গণি ১৪ লাখ, চিকিৎসা সহকারী কমল কৃষ্ণ সাহা ৭ লাখ, খুকু রানী সান্যাল ৬ লাখ, তোফায়েল হোসেন ৩ লাখ, আব্দুল মোন্নাফ মিয়া ২ লাখ এবং ওসুধ ব্যবসায়ী পংকজ কান্তি সাহা ৭ লাখসহ মানিকগঞ্জের ৭৫ জন প্রায় ৫ থেকে ১০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন। এভাবে সারাদেশের চিকিৎসক, চিকিৎসা সহকারী এবং ওষুধ ব্যবসায়ীরা এই কোম্পানীতে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন।

তারা আরো বলেন, ওষুধ কোম্পানী হিসেবে এই কোম্পানীর সুনাম রয়েছে। ওমক্সে, কেফিন, কেসল্ড ওষুদের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি লক্ষ করা যাচ্ছে, চাহিদা অনুযায়ী কোম্পানীর পক্ষ থেকে বাজারে ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না। এছাড়া ওই কোম্পানীর রয়েছে আরও সাতটি শিল্প প্রতিষ্ঠান। বিনিয়োগকারীরা সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের সহায়তা চেয়েছেন।

কেমিকো কোম্পানীতে বিনিয়োগকারী মানিকগঞ্জ কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডাক্তার ওসমান গনি জানান, সহকর্মীদের বিনিয়োগ দেখে ওই কোম্পানীতে ২০১১ সনে চার লক্ষ টাকা, ২০১২ সনে তিন লক্ষ টাকা, ২০১৩ সনে সাত লক্ষ টাকাসহ মোট ১৪ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করা হয়। নিয়মানুযায়ী কোম্পানী থেকে লভ্যাংশ দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী বিনিয়োগের টাকা আবেদনের ১০ দিনের মধ্যে কোম্পানী ফেরত দিয়ে দিবেন। বিনিয়োগের লভ্যাংশ বন্ধ করে দেওয়ার পর ২০১৮ সনের ১ সেপ্টেম্বর তিনি বিনিয়োগের ১৪ লক্ষ টাকা উত্তোলনের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু কোম্পানীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় তারিখ দিয়ে ঘুরাতে থাকেন। পরে বাধ্য হয়ে তিনি চলতি বছরের ১৪ মার্চ বিনিয়োগের টাকা ফেরতের দাবিতে মানিকগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল আদালতে মামলা করেছেন। ওই মামলায় আসামি করা হযেছে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মোহাম্মদ এন কে আসাদ, প্রধান হিসাব রক্ষক মোঃ ইসমাইল হোসেন, মাঠ ব্যবস্থাপক আলমগীর হোসেন ও মেডিকেল প্রতিনিধি আঃ রশিদকে।

এ বিষয়ে জানতে ওই কোম্পানীর জোনাল ম্যানেজার আব্দুল কাদের জিলানীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, করোনাকালিন সময়ে প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সঠিক ভাবে উৎপাদন না হওয়াতে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি স্বাভাবিক অবস্থায় এসেছে। কোম্পানীতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনেকই লভ্যাংশ ৬ মাস থেকে ১ বছর বকেয়া রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের সাথে প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। কিছু দিনের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

কড়চা/ বি সি

Facebook Comments
ভাগ