কোভিড যুদ্ধের দিনগুলো/ মো. নজরুল ইসলাম

কোভিড যুদ্ধের দিনগুলো

মো. নজরুল ইসলাম

বৈশ্বিক মহামারী করোনাকাল মানবজাতির সংকটকাল। করোনাকালীন যুদ্ধ শহর থেকে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে। ২য় ঢেউয়ের আক্রান্ত সংখ্যা আরো বাড়ছে। মানুষকে সচেতন করতে গিয়ে ডাক্তার, সাংবাদিক উন্নয়নকর্মীসহ সকল স্তরের মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। আমরাও তার বাইরে নই।

আমি নিজেই গত ১০ জুন ২০২১ থেকে জ্বর, ঠান্ডা উপসর্গ থেকেই কেন যেন মনে হলো কোভিড পরীক্ষা করা দরকার। তারপর আমার জীবন সঙ্গীনির তাগাদায় সেমপল দিয়ে আসলাম মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে। দুইদিন পর মেসেজে জানা গেলো করোনা পজিটিভ। তারপরই সরকারি বিভিন্ন দপ্তর থেকে ফোন আসা শুরু হলো। বিশেষত মানিকগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. রমজান আলী, সুযোগ্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মিয়া, জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাগন। কোথায় থাকি, কি করি ইত্যাদিসহ আইসোলেশন ও হোম কোরেন্টাইনের সকল আদ্যেপান্ত দিতে দিতে হয়রান হয়ে যাচ্ছি। তারপরও সরকারি বিধিনিষেধ বলে কথা। আমার বাড়ির মালিক জেলা ক্লিনিক এন্ড প্যাথলজি এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি হাসপাতালের ব্যাবস্থাপক মো. দেলোয়ার হোসেন সাহেবকে অবগত করলাম। তিনি আন্তরিকতার সহিত গ্রহণ করলেন এবং আমার পারিবারিক সকল সমস্যায় পাশে ছিলেন। আমার কর্মস্থল বারসিক আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল রায় ও নির্বাহী প্রধান সুকান্ত সেনকে অবগত করলাম। তারাও নিয়মিত আমার খোঁজ খবর নিয়েছেন। এছাড়াও আমার প্রিয় শিক্ষক ডাঃ অধ্যাপক মো.নাজমুল হাসান সৈনিক সাহেবও খোঁজ খবর নিয়েছেন।

শুরু হলো ১৪ দিনের দিন গণনা। দুইদিন পর থেকে আমার স্ত্রী-পুত্রও ঠান্ডা জ্বরে আক্রান্ত হলেও আমার কোথাও যাওয়ার উপায় ছিলো না। পরিবারসহ কাছের মানুষগুলো বাসায় আসতে চাইলেও তাদেরকে না করতে হয়েছে বলে আমি খুবই দুঃখিত। এর মাঝেও আমার ও স্ত্রীর কয়েকজন সহকর্মী বিশেষত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক বিশিষ্ট কবি ও লেখক জয়া রাণী সূত্রধর ও আমার সহকর্মী শাহিনুর রহমান এর প্রতি আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। এছাড়াও শুভাকাঙ্ক্ষীরা বাজার, খাবার, ফল বাসায় পৌঁছে দিয়েছেন। আমি তাদের প্রত্যেকের কাছে চির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। অনেক সাহসিকতার সাথে আমার স্ত্রী রুনা খানম নিজের, সন্তান ও সংসারের কাজ সামলিয়ে আমাকে আলাদা যত্নে রেখেছে। এজন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষে নেই।

১৪ দিন পর গত ২৫ জুলাই ২০২১ নেগেটিভ ফলাফলের জন্য আবার সেমপল দেই। মেসেজের অপেক্ষায় ছিলাম। সময়মতো মেসেজ পেলাম না বিধায় অনেক ভিড় ঠেলে হাসপাতালে আসলাম এবং স্বস্তির নিঃশ্বাস পেলাম। ফলাফল নেগেটিভ।

আমি এখন ভালো আছি, সুস্থ আছি।

আসুন আমরা সবাই স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলি, করোনামুক্ত সুস্থ জীবন গড়ি। করোনা ছোঁয়াছে রোগ নয়, সংক্রামক ব্যাধি। তাই করোনা রোগীকে ভয় নয়, সাহস যুগাই, সহযোগিতা করি, সবাইকে নিয়ে ভালো থাকি।

একাকিত্বের জঠর যন্ত্রণা থেকে মুক্তি ও বেঁচে থাকার আকুল আকুতি সকল প্রাণেরই রয়েছে। আমরা সকল প্রাণের বৈচিত্র্যময়তা চাই। জগতের সকল প্রাণ বেঁচে থাকুক স্বমহিমায়।

সকলের তরে সকলে মোরা, প্রত্যেকে মোর পরের তরে।

কড়চা/ এম এন ই

Facebook Comments
ভাগ