জাতীয় শোক দিবসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মরণে/ রুহুল ইসলাম টিপু

জাতীয় শোক দিবসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মরণে

রুহুল ইসলাম টিপু

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা ও স্থপতি। মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি। সাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক। জাতির জনক। রাজনৈতিক ইতিহাসের মহানায়ক। বঙ্গবন্ধু বাংলা-বাঙালি-বাংলাদেশ এক সূত্রে গাথা স্থাপিত বিশ্ব সর্বজনীন সংস্কৃতির চেতনা। বঙ্গবন্ধু পুনরুদ্ধার করেন দুইশো বছরের হারানো স্বাধীনতা। বাংলাদেশ নামক একটি রাষ্ট্র নতুন দেশ ও জাতি। স্বাধীন বাংলাদেশ। একটি রক্তাক্ত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই স্বাধীনতা অর্জিত। স্বাধীনতা একটি সশস্ত্র বিপ্লবের প্রসূন। সংগ্রামে নেতা, বিপ্লবে নেতৃত্ব। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামেও আমরা পেয়েছি নেতা-নেতৃত্ব। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই হলেন আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্যারামাউন্ট লিডার। বাঙালি জাতির মহান নেতা। তাঁর বিশাল নেতৃত্বেই অর্জিত বাংলাদেশ। লাল সবুজের পতাকা। একটি মানচিত্র। তিনি আমাদের প্রাণের মানুষ। ভালোবাসার মানুষ। বঙ্গবন্ধুর স্থান আপামর মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৭ মার্চ ১৯২০ সালে তৎকালীন ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার (বর্তমানে জেলা) টঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ হতে আমরা মুজিব জন্মশতবর্ষ উদযাপন করছি। ২০২১-এ একই সাথে বাংলাদেশ উদযাপন করছে মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তী। এ বছর ৪-৫ নভেম্বর মুজিব জন্ম শতবর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশ শান্তি সম্মেলন আয়োজন করবে। এ সম্মেলন হতে বিশ্বব্যাপী শান্তি ও মানবিক কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর অসামান্য অবদানের কথা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে।

তাঁর বাবা ছিলেন শেখ লুৎফর রহমান এবং মা সায়েরা খাতুন। গ্রেপ্তার কারাগার কখনও তিনি এড়িয়ে যেতেন না। ১৯৩৮ সালে বঙ্গবন্ধু প্রথম গ্রেপ্তার হন। বয়স ১৮। হিন্দু-মুসলমান দ্বন্দ্বে এক বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে মামলায় পড়েন। পুলিশ ডাকা হয়, মামলা করা হয়। তিনি পালিয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু পালাননি। শেখ মুজিব বলেছিলেন, ‘যাব না, আমি পালাব, লোকে বলবে আমি ভয় পেয়েছি।’ পালাননি তিনি। কারণ তাঁর বিশ্বাস ছিল, তিনি সত্যের পক্ষে আছেন। এটি উঠে আসে ০৭ আগস্ট ২০২১-এ আজকের পত্রিকায় জাহীদ রেজা নূর এর লেখা হতে। গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুলে পড়ার সময় ১৯৩৯ সালে ঘনিষ্ট সান্নিধ্য লাভ করেন তৎকালীন বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির মূখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হকের সাথে। অন্যজন হলেন পরবর্তীতে বাংলার ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। শুরু হলো বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন। দেশের কল্যাণে জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত তিনি ত্যাগ এবং রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা, আমার দেখা নয়াচীন বিশ্বের বিরল সংকলন। বঙ্গবন্ধুকে নিবিড়ভাবে জানার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে তাঁর লেখা বই তিনটি। কারাগারের রোজনামচা সংকলনে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গ চোখের পানিতে ভেসে ভেসে প্রকাশনা সম্পন্ন করেন। পাঠক হিসেবে আমরা কারাগারের রোজনামচা পড়ে চোখের পানি সংবরণ করতে পারি না। বঙ্গবন্ধু জেল কারাগার মৃত্যু ভয় পরোয়া করতেন না। তিনি রাজনীতি করতেন দেশ এবং মানুষের কল্যাণে। তাঁর রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেশকে ছাড়িয়ে বিশ্ব দরবারে সুপ্রতিষ্ঠিত।

রাজনীতিতে ক্ষমতা এবং ক্ষমতার বাইরে কোনকালেই তিনি আয়েশে জীবনযাপন করেননি। তিনি মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ছিলেন। জীবনের বড় অংশ কেটেছে জেল কারাগারে। ২৩ বছরের পাকিস্তান শাসনামলের ১২ বছর তিনি জেল খেটেছেন। দলের কাজে অধিক মনোনিবেশ করার জন্য মন্ত্রীত্ব পর্যন্ত ছেড়ে দেন। বর্ণাঢ্য এক রাজনৈতিক জীবন তাঁর। পৃথিবীর রাজনৈতিক ইতিহাসেও বিরল দৃষ্টান্ত।

পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন বাঁচানোর জন্য ’৭১ এর ১২ আগস্ট বিশ্বের বৃহৎ শক্তিগুলোর কাছে আবেদন জানান বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর বিচার করার আইনগত, সাংবিধানিক বা অন্য কোনো অধিকার প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের নেই। শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, পুরো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শান্তির জন্যই বঙ্গবন্ধুকে বাঁচানো দরকার।’ জাতিসংঘের একজন মুখপাত্র এই দিন নিউইয়র্কে বলেন, ‘শেখ মুজিবের বিচার সম্পর্কে মহাসচিব উ থান্ট নেপথ্যে কুটনৈতিক আলোচনা চালাচ্ছেন।’ মুখপাত্র বলেন, ‘ভারতীয় রাষ্ট্রদূত সমর সেন ১১ আগস্ট রাতে উ থান্টের হাতে শেখ মুজিবের বিচার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর একটি পত্র দিয়েছেন।’ ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী দেশটির সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় বলেন, ‘শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সামরিক সরকার কোনো ব্যবস্থা নিলে তার প্রতিক্রিয়া শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা পৃথিবীতেই হবে। তাঁর নিরাপত্তার জন্য ভারত বিশ্বের অনেকগুলো দেশকে অনুরোধ করেছে। কয়েকটি দেশ কাজও করছে।’ এটি প্রথম আলো’তে ১২ আগস্ট ২০২১-এ উঠে আসে ‘মুক্তিযুদ্ধে এই দিনে’ শিরোনামে। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের বক্তৃতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, ‘ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার সময় আমি বলবো, আমি বাঙালি, বাংলা আমার দেশ, বাংলা আমার ভাষা। জয় বাংলা।’

বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। তিনি নিহত হয়েছেন ষড়যন্ত্রকারীদের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসা একদল নিষ্ঠুর ঘাতকের হাতে। ১৫ আগস্ট ট্র্যাজেডি হচ্ছে বাঙালি জাতির পিতাসহ পরিবারবর্গের প্রায় সকলকে চিরতরে হারানোর বেদনা। একটি কাপুরুষোচিত প্রতিবিপ্লবের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়াশীল চক্র বিপ্লবের মহান নেতাকে হত্যা করে। অন্যদিকে তেমনি জাতীয় আদর্শ হারানোর ট্র্যাজেডি। আর এই বিশাল শোক সইবার শক্তি অর্জনের মাধ্যমেই ঘটাতে হবে পুনর্জাগরণ। কে বলে বঙ্গবন্ধু নেই। বঙ্গবন্ধু অমর, অজর, অবিনাশী। ঘৃণ্য ঘাতকের কটি তপ্ত বুলেট তাঁর নশ্বর দেহকে শেষ করে দিতে পারে। বঙ্গবন্ধুর কীর্তি সেতো অবিনশ্বর। তাঁর আদর্শ অম্লান। তাঁর নবজাগরণ অনিবার্য। সেই জাগরণের জোয়ারে প্লাবন সৃষ্টি হতে পারে বাংলাদেশের সাধারণ রাজনৈতিক সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে। বঙ্গবন্ধু আমাদের রাজনৈতিক মানস বিনির্মাণের প্রেরণাপুরুষ। রাজনৈতিক ভাবাদর্শে দেশপ্রেম, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রেরণা আমরা পাই বঙ্গবন্ধুর নিকট হতে। বঙ্গবন্ধুই বিভক্ত সমাজ ও রাজনীতি-উপদ্রুত বাংলাদেশে ঐক্য এবং বিশ্ব শান্তির প্রতীক। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ এক ও অভিন্ন সত্ত্বা। বঙ্গবন্ধুকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশকে নিয়ে চিন্তা করা সেতো দুঃস্বপ্ন দুর্ভাবনা।

আজকের দিন শোক এবং মাতমের দিবস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির পিতা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি ও স্বাধীন বাংলাদেশের রূপকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এটি ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বরতম নিষ্ঠুর নৃশংস হত্যাকান্ড। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ আরো যাদের ঘাতকরা সেদিন হত্যা করেছিল তারা হলেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী মহীয়সী নারী বেগম ফজিলাতুন নেছা, বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠপুত্র মুক্তিযোদ্ধা লে.শেখ কামাল, পুত্র লে.শেখ জামাল, কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেল, দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসের, ভগ্নিপতি ও কৃষিমন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাত ও তাঁর কন্যা বেবী সেরনিয়াবাত, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবনেতা ও সাংবাদিক শেখ ফজলুল হক মণি ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি, বঙ্গবন্ধুর সামরিক সচিব কর্ণেল জামিল আহমেদ এবং ১৪ বছরের কিশোর আবদুল নঈম খান রিন্টুসহ ১৬ জন। বিদেশে অবস্থান করার কারণে তাঁর দুই কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বেঁচে যান।

বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপ্রধান হওয়া সত্ত্বেও তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্নটিকে গুরুত্ব দেননি। দেশের কোন মানুষ তাঁর কোনও ক্ষতি করবে, এ ছিল তাঁর চিন্তার বাইরে। এই আস্থা যে ভিত্তিহীন ছিল, প্রাণ দিয়ে তিনি তা প্রমাণ করেছেন। বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যবর্গের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। জননেত্রী শেখ হাসিনা’র সরকার বঙ্গবন্ধু হত্যা ঘটনার বিচার কার্য সম্পন্ন করেছেন। পাঁচ ঘাতকের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। ঘাতকদের একজন বিদেশে পলাতক অবস্থায় মারা গেছে। ছয়জন বিদেশে পলাতক রয়েছে। ৩৪ বছর পর হত্যাকান্ডের বিচার বাস্তবায়িত হয় ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি।

১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালের ট্র্যাজেডির সাথে একই বছর ০৩ নভেম্বর মহান চার নেতা মুজিবনগর সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজ উদ্দিন আহমেদ, মন্ত্রী এ এইচ এম কামারুজ্জামান এবং মন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অবঃ) এম মনসুর আলীকে নির্মমভাবে কারাগারে হত্যা করা হয়। তাঁদের প্রতিও বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করি। শ্রদ্ধা জানাই ৩০ লক্ষ শহীদ মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি। প্রায় ৪ লক্ষ মা বোন সম্ভ্রম হারান মুক্তিযুদ্ধে। তাঁদের প্রতিও বিনম্র শ্রদ্ধা। ১৫ আগস্ট এর শোকগাথা কোটি মানুষ একত্রে চোখের জল দিয়েও আমরা রক্তের ঋণ শোধ করতে পারবো না। তাই আমাদের একটিই লক্ষ্য বঙ্গবন্ধু এবং মহান নেতাদের আদর্শের বাংলাদেশকে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। বর্তমান সরকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর কন্যা শেখ হাসিনা দৃঢ় হস্তে নেতৃত্ব দিয়ে সম্মুখপানে নিয়ে যাচ্ছেন দেশকে। বিশ্ব পরিমন্ডলকে উপহার দিচ্ছেন সাফল্যের বাংলাদেশ। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। জাতির জীবনে ১৫ আগস্ট এক কলঙ্কময় দিন। এ দিবসটি জাতীয় শোক দিবস হিসেবে বাঙালি জাতি পালন করে। বাংলাদেশ এ মুহূর্তে ভীষণ শোকাহত। আমরা শোককে শক্তিতে রূপ দিতে চাই। জেগে উঠতে চাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নের অংশীদার হয়ে। আমাদের বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা আজ একটি বিস্ময়কর দেশ। অর্থনীতি অবকাঠামোসহ সকল ক্ষেত্রের উন্নয়নের সূচকে বাংলাদেশের রয়েছে ঈর্ষনীয় সাফল্য। আমরা এখন ১৬ ডিসেম্বর সুবর্ণজয়ন্তীর বিজয় দিবস পালনের মধ্য দিয়ে উদযাপনের ইতিহাসের এক ভাগীদার হতে যাচ্ছি। আমরা চাই সকলে মিলে সেই আয়োজন সার্থক করবো। বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবারের শদীদ সদস্যদের আত্মার শান্তি কামনা করি।

আমাদের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকুন পৃথিবীর বুকে চিরকাল। অমর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

কড়চা/ আর ই টি

Facebook Comments
ভাগ