শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মরণে কিছু কথা : প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মরণে কিছু কথা

প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন

আজ ১৯ জানুয়ারি ২০২৬—শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী। তিনি ১৯৩৬ সালের এই দিনে বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবকাল থেকেই জিয়াউর রহমান ছিলেন আত্মনির্ভরশীল, দৃঢ়চেতা ও শৃঙ্খলাপরায়ণ।
১৯৫৫ সালে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। পরবর্তীতে প্যারা ট্রুপিং ও কমান্ডো ট্রেনিং গ্রহণের মাধ্যমে নিজেকে একজন দক্ষ ও সাহসী সেনা কর্মকর্তা হিসেবে গড়ে তোলেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক ও অনন্য। ২৬ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তিনি বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এই কারণেই জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন পদে অধিষ্ঠিত হন। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৯৭৭ সালে গণভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তার নেতৃত্বে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করা হয়। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করে দেশের রাজনীতিতে একটি নতুন ধারার সূচনা করেন।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে মানুষ সৎভাবে জীবনযাপন করবে এবং দেশকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসবে। তার স্বল্পকালীন শাসনামলে কৃষি, শিল্প, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও শিক্ষা খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সাধিত হয়। দুর্নীতি দমনে তিনি কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন এবং সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি ও প্রশাসনিক কাঠামো সংস্কারে দৃঢ় পদক্ষেপ নেন।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক সেনা অভ্যুত্থানে তিনি শহীদ হন। তার আকস্মিক ও নির্মম হত্যাকাণ্ডে সমগ্র জাতি গভীরভাবে শোকাহত হয়। এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর ও কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।
আজ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকীতে আমরা গভীর শ্রদ্ধাভরে তাকে স্মরণ করছি এবং মহান আল্লাহর কাছে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।
কড়চা/ জেড এইচ
Facebook Comments Box