একাকী দুপুর
মেহনাজ মুস্তারিন
নির্জন নিরব কোলাহল শূন্য একাকী দুপুর!
বড্ড নির্লোভ অহংকারী দুপুর!
মনের মধ্যে ঘুমিয়ে থাকা সেই দুপুরের কথা খুব মনে পড়ে!
মনে পড়ে গ্রীষ্মের ঠা–ঠা রৌদ্দুরে
উত্তপ্ত টিন! মগজ গলে পড়তো নরম বালিশে! আর ওপাশে
গাছের পাতাগুলো ম্রিয়মান তাকিয়ে থাকতো! সুঁইয়ের মতো
চিকন তাপ ত্বকের পাহারা ফাঁকি দিয়ে রক্তের ঠিকানায় পৌঁছে যেতো!
ক্লান্ত, বিষন্ন, মোহময় একাকী মুহূর্ত!
বাড়িময় সকলে গভীর ঘুমে ডুবে যেতো
কলাপাতায় মুড়িয়ে! সকলে দিশেহারা!
শুধু আমি! একাকী আত্মহারা
জেগে থাকতাম সেই দুপুরের সাথে! আর
জেগে থাকতো আমার বাড়ন্ত বয়সের ইচ্ছেগুলো!
জেগে থাকতো আমার মন! আশ্রয়ের উত্তাপ খুঁজে নিতে
এঘর ওঘর ছুটে বেড়াতো; এলোমেলো স্বপ্ন নীড়হারা পাখির মতো
খুঁজে চলতো পথ! অচেনা কাকের ডাক এডাল ওডাল ভারী করে তুলতো!
খা–খা রৌদ্রজ্বল দুপুর! আহ! আমার সেই দুপুর!
দোয়েলকে দেখতাম কালো লেজ উচিয়ে ডানা ঝাপটাতে!
দেখতাম, ক্লান্ত ডানাদুটোকে পেয়ারা পাতায় জিরিয়ে নিতে!
দেখতাম, জলন্ত আগ্নেয়গিরি থেকে লাভার স্রোত গড়াতে গড়াতে
নববিবাহিত শরীরের উচ্ছাসে আশ্রয় পেতে
ছুটছে তো ছুটছেই!
একাকিত্বের ঘোর, সাড়াশব্দহীন এলোমেলো চিন্তা
সহসা কোথায় লুকাতো মুখ! কোথায় দুঃখ কোথায় সুখ!
নিমিষে সব বিলীন! উত্তাপের নিচে চাপা পড়ে যায় অহংকার!
দাবদাহ বিড়বিড় করে বলে যায় কিছু কথা,
কিছু ইশারা দিয়ে যায়! কিছু বুঝি, কিছু তার বুঝি না!
কী বলতে চাইতো জানি না; তবু ইচ্ছে করতো শুনতে!
বলতেও খানিক!
দুপুরের সেই একাকী রোদ
দাবদাহ অতিক্রম করে যাওয়া একাকী সেসব কথা
কেউ শুনতো কি না জানি না! জানতে চাইনি কোনদিন!
শুধু জানি, ততক্ষণে আমি ঘোরের মধ্যে ডুবে যেতাম!
হৃদয়ের যত আলাপন সব, সব সবকিছু লিখে রাখতাম
আমার সাদা খাতায়! সেখানে পাতায় পাতায়
জেগে থাকে উত্তাপ! আর গল্প সেই একাকী দুপুরের!
কড়চা/ এম এম
















