তৃতীয়বার মূখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় মমতা দিদিকে অভিনন্দন!/ রুহুল ইসলাম টিপু

তৃতীয়বার মূখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় মমতা দিদিকে অভিনন্দন!

রুহুল ইসলাম টিপু

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ০৫ মে ২০২১ টানা তৃতীয়বারের মতো ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এর পূর্বে ০৩ মে ২০২১ সন্ধ্যায় দ্বিতীয় মেয়াদের মূখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়লেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি রাজ্যপাল এর নিকট পদত্যাগপত্র জমা দেন। অনাড়ম্বর শপথ অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় মমতাকে ছোট বোন হিসেবে সম্বোধন করে বলেন, ‘পর পর তিন বার ক্ষমতায় আসার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। শুভেচ্ছা জানাই। তবে এই মুহূর্তে রাজ্যে অহেতুক হিংসা বন্ধ করাই প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিৎ। কারণ এর ফলে সমাজের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। মূখ্যমন্ত্রীর উপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আশা করি, রাজনীতির উর্ধে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা পুন:প্রতিষ্ঠা করতে শিঘ্রই ব্যবস্থা নেবেন তিনি।’

৯ কোটি ২০ লক্ষ মানুষের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ। এ নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ২১৩ টি, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারি দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ৭৭ টি, জোট ১ টি এবং অন্যান্য ১ টি আসন লাভ করে। প্রার্থীর মৃত্যুতে ২ টি আসনে ভোট হয়নি। প্রথমবার ২০১১ সালে কম্যুনিস্ট সরকারকে হারিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় এসেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গে ৩৪ বছর ক্ষমতায় ছিল কম্যুনিস্ট পার্টি। এর পূর্বে স্বাধীনতার পর হতে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ও বাংলা কংগ্রেস মূলত: পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় ছিল। দ্বিতীয় মেয়াদে ২০১৬ সালে ২৯৪ টি আসনের মধ্যে ২১১টি আসন পেয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসীন হয়। এসময় বিজেপি পেয়েছিল ৩ টি আসন।

বাংলাদেশ-ভারত বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের সাথে আমাদের সম্পর্ক নিবিড়, ঘনিষ্ট, সৌহার্দমন্ডিত এবং উভয়ের শিকড় একইগুচ্ছে আচ্ছাদিত। ১৯৪৭ এর পূর্বে আমরা ছিলাম অবিভক্ত বাংলার অংশ। অভিন্ন বাংলা অর্থ্যাৎ ১৯০৫ সাল পূর্ব বাংলা প্রেসিডেন্সি। যার মধ্যে ছিল পূর্ব ও পশ্চিম বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা ও ছোট নাগপুর। ১৯০৫ সালে বাংলা প্রেসিডেন্সিকে শাসনের সুবিধার্থে পূর্ব বাংলা ও আসাম নিয়ে ঢাকাকে রাজধানী করে একটি প্রেসিডেন্সি গঠিত হয়। পশ্চিম বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা ও ছোট নাগপুরকে নিয়ে কলিকাতাকে রাজধানী করে আর একটি প্রেসিডেন্সি গঠিত হয়। ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হলে বঙ্গদেশ তার পূর্ববর্তী সীমানা ফেরত পায় না। বরং এটিকে ভেঙ্গে বিহার ও উড়িষ্যা নামে দুটি প্রদেশের জন্ম দেয়া হয়। নতুন ব্যবস্থায় পূর্ববঙ্গ এবং দার্জিলিংসহ পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে বঙ্গপ্রদেশ গঠিত হয়।

১৯২৪ সালে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক বাংলার শিক্ষামন্ত্রী হয়েছিলেন। তিনি ১৯৩৫ সালে কলিকাতা কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। তিনিই ছিলেন এ পদে অধিষ্ঠিত প্রথম বাঙালি মুসলমান। অবিভক্ত বাংলা প্রাদেশিক স্বায়ত্বশাসন পাবার পর ১৯৩৭ সালে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ব্রিটিশ ভারতে প্রজা পার্টি নামে সামন্ততন্ত্র বিরোধী যে দল ছিল ফজলুল হক সেটির রূপান্তর ঘটান কৃষক-প্রজা পার্টি নামে রাজনৈতিক দলে। এ নির্বাচনে বঙ্গীয় প্রাদেশিক পরিষদে তাঁর দল তৃতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগ এবং নির্দলীয় সদস্যদের সঙ্গে জোট গঠন করেন ফজলুল হক। এ কে ফজলুল হক হন অবিভক্ত বাংলার প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী।

০২ মে ২০২১ আনন্দবাজার পত্রিকা অনলাইনে প্রকাশিত তথ্যে আরো জানা যায়, ‘এরপর খাজা নাজিমুদ্দিন এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীও ছিলেন ব্রিটিশ বাংলার ‘প্রাইম মিনিস্টারস’। কিন্তু কোনও বারই সরকার দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। প্রসঙ্গত: ব্রিটিশ শাসনের এই আইনসভার সদস্যদের মধ্যে ব্রিটিশদেরই প্রাধান্য ছিল। দেশীয় সদস্য বলতে সেখানে দেখা যেত শুধুমাত্র অভিজাত বংশের রাজন্যবর্গ এবং জমিদার শ্রেণির প্রতিনিধিদের। স্বাধীনতা লাভের কয়েক বছর আগে থেকে এই ছবির আমূল পরিবর্তন হতে শুরু করে।’

১৯৪৭ এ ব্রিটিশের পরাধীন হতে মুক্ত হয় ভারতবর্ষ; পাকিস্তান ও ভারত বিভক্তি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ; বাংলাদেশের অভ্যুদয়, স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের আত্মপ্রকাশ। এ বছর আমরা পালন করছি স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী। মুজিব জন্মশতবার্ষিকী। ২০২১ সাল হচ্ছে ভারতের সাথে বাংলাদেশের কূটনীতিক সম্পর্ক অর্জনের ৫০ বছর। ইউএনবি প্রকাশিত ০৫ মে ২০২১ এর সংবাদে জানা যায়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ী মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়’কে অভিনন্দন জানান। এটি ছিল তৃণমূল পার্টির ঐতিহাসিক বিজয়। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি আপনার সহযোগিতা এবং অঙ্গীকারের মাধ্যমে দু’দেশের সম্পর্ক আরো জোরদার ও শক্তিশালী হবে। এর ফলে অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর সুরাহায় সহায়তা হবে। কূটনীতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তীতে পররাষ্ট্র মন্ত্রী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের জনগণ এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

ভোট হচ্ছে গণতন্ত্রের প্রধান পূর্বশর্ত। স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের পর গণপরিষদে আমাদের মহাননেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভাষণ প্রদান করেন। তিনি তাঁর ভাষণের শেষ অংশে বলেন, ভবিষ্যৎ বংশধররা যদি সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ এবং ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তিতে শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারেন, তাহলে আমার জীবন সার্থক হবে, শহীদের রক্তদান সার্থক হবে। এ ৪ মূলমন্ত্র হচ্ছে আমাদের বাংলাদেশের দর্শন। তাই ভোট এবং রাজনীতি এ দু’য়ে আমাদের আগ্রহ প্রবল। রাজনীতি এবং ভোটে ধর্মের উপস্থিতি বড়ই কষ্টের এবং অনুতাপের বিষয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচনে জিতেছে; কিন্তু তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে হেরেছেন। প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘নন্দীগ্রামের মানুষের রায় মেনে নিচ্ছি।’ এটিই গণতন্ত্র। পার্টি প্রধানের জনগণের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসকে শ্রদ্ধা জানানোর আচরণকে কুর্নিশ ও সম্মান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর জাতীয় এবং বিশ্বমানের রাজনীতিক হওয়ার নেপথ্যের সূত্র এটিই। ০৫ মে বিবিসি বাংলা’র শুভজ্যোতি ঘোষ এর একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ‘মমতা ব্যানার্জী: তিনবারের মূখ্যমন্ত্রী, সম্ভব কি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়াও?’ এ প্রতিবেদনের অন্যত্র বলা হয়েছে, তবে সার্থক ‘স্টেটসম্যান’ হয়ে উঠতে গেলে তাকে তিস্তা চুক্তি বা আরও বহু ইস্যুতেই আঞ্চলিকতার রাজনীতি ছাড়তে হবে এবং আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকারগুলো দেখতে হবে বলে উল্লেখ করেছেন অমিত ভট্টাচার্য। তাঁর প্রিয় একটা রাজনৈতিক শ্লোগান হিন্দিতে যার বাংলা হচ্ছে আমাদের সঙ্গে টক্কর দিতে এলে চুরমার হয়ে যাবে। আপাতত পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে ‘চুরচুর’ করার পর জাতীয় স্তরেও বিজেপি বধ করার জন্য এই মুহূর্তে তিনিই যে বিরোধী শিবিরের সেরা বাজি, তাতে কোনও সন্দেহ নেই বললেই চলে। বর্তমানে ২৮ টি রাজ্যের মূখ্যমন্ত্রীদের মধ্যে একমাত্র নারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিনন্দন জানানোর প্রাক্কালে তাঁর বেড়ে উঠার স্তরের কিছুটা আলোকপাত করছি। জন্ম ০৫ জানুয়ারি ১৯৫৫। বাবা প্রমীলেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী। ইতিহাসে স্নাতক, ইসলামিক ইতিহাসে স্নাতকোত্তর। যোগেশচন্দ্র চৌধুরী ল’ কলেজ থেকে আইন নিয়ে পড়াশুনা। ওড়িশার কলিঙ্গা ইনস্টিটিউট অব ইন্ডাষ্ট্রিয়াল টেকনোলজি থেকে ডক্টরেট ডিগ্রিও নিয়েছেন। পরিবারের খরচ চালাতে কাজ করেন স্টেনোগ্রাফার ও প্রাইভেট টিউটর হিসেবে। সরকারি দুগ্ধকেন্দ্রে ২৫ টাকা বেতনে সেলস এর কাজও করেছেন। ’৬০ এর দশকে রাজনীতিতে প্রবেশ। কংগ্রেসের যুব শাখা ‘ছাত্র পরিষদ’ প্রতিষ্ঠা। ১৯৭৬-৮০-এ পশ্চিমবঙ্গে নারী কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৮৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে সিপিএম প্রার্থী সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে পরাজিত করেন। এখান হতে তাঁর উত্থান। যুবনেত্রী হিসেবে কাজ শুরুর পর পদোন্নতি। দায়িত্বও বেড়ে যায়। মন্ত্রী হলেন ১৯৯১ সালে। ১৯৯৭ সালে কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। প্রতিষ্ঠা করেন তৃণমূল কংগ্রেস। ২০০৪ সালে একমাত্র তিনিই তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে লোকসভা নির্বাচনে জিতেছিলেন। কারখানা গড়ার জন্য সিঙ্গুরে অনিচ্ছুক চাষিদের নিকট জমি নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ২৫ দিনের অনশন করেন। চাষিদের সমর্থন করে তৃণমূল। পুলিশের গুলিতে ১৪ গ্রামবাসী মারা যান। আহত ৭০ জন। এ ঘটনাই ২০১১ বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে জিততে সাহায্য করে। এ বছরই রাজ্যের প্রথম নারী মূখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সকলের দিদি। অসম্ভব সাহসী এবং লড়াকু রাজনীতি যোদ্ধা। প্রচন্ড পরিশ্রমী। তাইতো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিরাপদ আসন ছেড়ে ঝুঁকিপূর্ণ নন্দীগ্রামে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের দোড় গোড়ায় প্রতিটি মানুষের সাথে তাঁর আত্মার সম্পর্ক। মানুষ এবং নেত্রীর অন্তরঙ্গ আত্মিক মিলন। এরকম নেতাই আজ দেশে দেশে বড় প্রয়োজন। তিনি জনসংযোগের জন্য ২০১৯ সালের ২৯ জুলাই ‘দিদিকে বলো’ হেল্পলাইন নম্বর চালু করেন। তাঁর জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে সরকার আপনার দরজায়, স্বাস্থ্যসাথী, খাদ্যসাথী, কৃষকবন্ধু, শিক্ষাশ্রী, কন্যাশ্রী, সবুজসাথী, রূপশ্রী, জাগো ইত্যাদি। এবারের নির্বাচনে তাঁর দলে ১৭% নারী প্রার্থী ছিলেন। অতি সাধারণ জীবনযাপন তাঁর। কালিঘাটের টালির চালের একতলা বাড়ি। বৃষ্টি হলে টালি নালার ধারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে। আমরা আপনার মতো নেতা নেত্রীর অভাব অনুভব করি।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজ দলের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘সকলকে বলব, রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণ আচরণ করবেন না। এরও পূর্বে নব নির্বাচিত বিধায়কদের তিনি বলেন, বিধায়ক হয়ে গিয়েছি বলে অহঙ্কার করলে চলবে না। জিতেছেন মানে দায়িত্ব বেড়েছে।’ তৃণমূলের জয়ের পর দেশের একাধিক বিজেপি বিরোধী দলের নেতৃত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের জয়ে সারা দেশের মানুষ খুশি হয়েছেন। দেশের সব বিরোধীরা অভিনন্দন জানিয়েছেন।’ এটিই হচ্ছে গণতন্ত্রের ভাষা এবং সংস্কৃতি। তৃণমূল নেত্রীর সমান্তরালে নির্বাচিত বিধায়কবৃন্দও মিলেমিশে কাজ করার ব্রত গ্রহণ করেছে। মেদিনীপুর থেকে নির্বাচিত বিধায়ক জুন মালিয়া মূখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ শেষ হওয়া মাত্র চলে যান তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী শমিতকুমার দাসের বাড়িতে। শমিতকে ভাইফোঁটা দেওয়ার কথাও জানান। জুন বলেন, ‘অশান্তি নয়। শান্তি চাই। আমরা দু’জইে শান্তির বার্তা দিতে চাই দুই দলের সমর্থকদের। উন্নয়ন তো একা করা যায় না। হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছি।’ রাজভবনে তৃতীয়বারের জন্য মূখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েই রাজ্যের করোনা পরিস্থিতির মোকাবেলায় একগুচ্ছ ঘোষণা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যার মধ্যে রয়েছে বৃহস্পতিবার আজ থেকে রাজ্যে লোকাল ট্রেন বন্ধ, মেট্রো ও সরকারি পরিবহন অর্ধেক।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন শুধু পশ্চিমবঙ্গের দিদি নন। তিনি মানুষের দিদি। তিনি আমাদেরও দিদি। ঢাকা-কলিকাতা’র অনেক প্রকল্প রয়েছে বাংলাদেশ-পশ্চিমবঙ্গের। দ্রুত এসব বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক আরো জোড়দার হবে। আন্ত:রাষ্ট্রীয় ইস্যুগুলো কেন্দ্রের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে অবসান ঘটবে, এ প্রত্যাশা বাংলাদেশবাসীর। এ ধরনের উচ্চমানের নেতৃত্বর সক্ষমতা আমাদের দিদি’র রয়েছে। দিদি’র দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুনরায় উষ্ণ অভিনন্দন! গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আমাদের দিদি হোক আগামীদিনের ভারত নেতা, দেশের প্রধানমন্ত্রী। গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতার মধ্য দিয়েই ঘটবে মানুষের বিজয়। মানবতার বিকাশ।

কড়চা/ আর ই

Facebook Comments
ভাগ