কড়চা রিপোর্ট : মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) সহ ১০ জন সদস্য স্থানীয় জনতার হাতে আটকা পড়েন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলার তারাবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দশ সদস্যের একটি দল সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় ৩৫ পিস ইয়াবাসহ আরিফুল ইসলাম (২০) নামে এক যুবককে আটক করা হয়।
আটকের পর তার দেওয়া তথ্যে পার্শ্ববর্তী দু’টি বাড়িতে তল্লাশি চালানো হলেও কিছু পাওয়া যায়নি। এ সময় স্থানীয়দের মধ্যে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, অভিযানের সদস্যরা টাকার বিনিময়ে দুজনকে ছেড়ে দিয়েছেন। খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জনতা তাদের আটক করে রাখে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা পর মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের এসআইসহ ১০ সদস্য ও আটককৃত মাদক ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
গ্রেফতারকৃত আরিফুল ইসলাম ধানকোড়া ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের মো. বাবুলের ছেলে।
এ বিষয়ে সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে যাই এবং তাদের নিরাপদে উদ্ধার করি। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আতাউর রহমান সজিব বাদী হয়ে আরিফুল ইসলামের নামে একটি মাদক মামলা দায়ের করেছেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মানিকগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আহসানুল কবির বুলবুল বলেন, এই অভিযানটি পূর্বনির্ধারিত ছিল। তবে ঘটনায় অন্য কোনো উপাদান থাকতে পারে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।
অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোস্তাক আহমেদ জানান, ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. শওকত ইসলামকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা সরেজমিনে যাচাই-বাছাই করছেন। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
কড়চা/ এস এস
















